ইমিলি ব্রন্টের ১৮৪৭ সালের ক্লাসিক উপন্যাসের আধুনিক রূপান্তর, এমারাল্ড ফেনেল পরিচালিত ‘উদারহাইটস’ চলচ্চিত্রের সমালোচক পর্যালোচনা আজ প্রকাশিত হয়েছে। ছবিতে জ্যাকব এলোর্ডি হিথক্লিফ এবং মারগট রোবি ক্যাথরিন এর্নশো চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে প্রদর্শনের প্রস্তুতি চলছে।
ফিল্মটি ইউর্কশায়ার মোর্সের পটভূমিতে গড়ে ওঠা তীব্র ও ধ্বংসাত্মক প্রেমের গল্পকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে। মূল উপন্যাসের আবেগময় তীব্রতা বজায় রেখে, পরিচালক ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ড ডিজাইনে নতুনত্ব আনতে চেষ্টা করেছেন।
প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি হং চাউ, অ্যালিসন অলিভার, শাজাদ লাতিফ, মার্টিন ক্লুনেস, ওয়েন কুপার, শার্লট মেলিংটন, ইওয়ান মিচেল এবং এ্যামি মরগানও ছবিতে উপস্থিত। এই সমাবেশটি উপন্যাসের জটিল সম্পর্কগুলোকে বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্য রাখে।
চলচ্চিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন থিয়েটার চেইনে একসাথে মুক্তি পাবে, এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও একই সময়ে প্রদর্শিত হবে। মুক্তির পূর্বে প্রকাশিত ট্রেলারগুলো ইতিমধ্যে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সমালোচকরা ছবির প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন; কেউ ভিজ্যুয়াল ও সুরের সমন্বয়কে প্রশংসা করেন, আবার কেউ গল্পের মূল সত্তা থেকে বিচ্যুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সমগ্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলচ্চিত্রটি প্রচলিত রোমান্সের চেয়ে বেশি সাহসী ও পরীক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে।
একজন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক উল্লেখ করেছেন, ফেনেলের রূপান্তরটি কখনও কখনও অযৌক্তিক সীমা অতিক্রম করে, তবে যদি দর্শক পূর্বধারণা ছেড়ে দিয়ে নতুন ব্যাখ্যা গ্রহণ করেন, তবে এটি তার সবচেয়ে বিনোদনমূলক কাজ হতে পারে। রঙের সমৃদ্ধি, অতীতের সঙ্গে আধুনিক উপাদানের মিশ্রণ, এবং সাহসী নান্দনিকতা ছবিটিকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, আরেকজন সমালোচক এই রূপান্তরকে ‘শূন্য’ বলে সমালোচনা করেছেন, কারণ এটি মূল উপন্যাসের গভীর আবেগময় তীব্রতাকে বাণিজ্যিক রোমান্সের ছাঁচে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিরোনামের উদ্ধৃতি চিহ্ন এবং পরিচালকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত ব্যাখ্যা মূল কাহিনীর স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষয় করেছে।
একজন তৃতীয় সমালোচক ছবির স্নিগ্ধতা ও আবেগের প্রবাহকে ‘অত্যন্ত সিক্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা চরিত্রগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও উত্তেজনা উভয়ই প্রকাশ করে। যদিও এই মন্তব্যটি ছবির টোনকে অতিরিক্ত রোমান্টিক হিসেবে চিহ্নিত করে, তবু তিনি স্বীকার করেন যে এই পদ্ধতি দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণে কার্যকর হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, চলচ্চিত্রটি অতীতের ঐতিহ্যবাহী শৈলীর সঙ্গে আধুনিক নান্দনিকতার মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি নতুন রূপ তৈরি করেছে। অ্যানাচ্রোনিস্টিক উপাদান, উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার এবং কখনো কখনো বেদনাদায়ক হাস্যরসের সংযোজন ছবিটিকে প্রচলিত রোমান্সের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে, যারা ‘ব্রিজগার্টন’ সিরিজের মতো রঙিন ও আধুনিক রোমান্সে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এই রূপান্তরটি আকর্ষণীয় হতে পারে। সমালোচকরা উল্লেখ করেন, ছবির দৃশ্যাবলি ও সঙ্গীতের সমন্বয় তরুণ হৃদয়কে উস্কে দিতে পারে, যদিও কিছু অংশে অতিরিক্ত নাটকীয়তা দেখা যায়।
চলচ্চিত্রটি ১৩ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে প্রদর্শিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, দর্শকরা এই নতুন ব্যাখ্যাকে কীভাবে গ্রহণ করবেন তা দেখা বাকি। সমালোচকদের মিশ্র মতামত সত্ত্বেও, ছবির ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ এবং প্রধান অভিনেতাদের পারফরম্যান্সের জন্য আগ্রহ বাড়ছে। মুক্তির পরের সপ্তাহে বক্স অফিসের ফলাফল এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়া চলচ্চিত্রের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নির্ধারণ করবে।



