18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধভোটের আগে ৩ হাজারেরও বেশি অস্ত্রধারী ও শুটার তালিকাভুক্ত, ৩৫২ জনকে ‘শুটার’...

ভোটের আগে ৩ হাজারেরও বেশি অস্ত্রধারী ও শুটার তালিকাভুক্ত, ৩৫২ জনকে ‘শুটার’ হিসেবে চিহ্নিত

জাতীয় নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে, গত শনিবার মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্সিকান্দি এলাকায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী‑সমর্থকদের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষে উভয় পক্ষ থেকে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবর্ষণে একাধিক ব্যক্তি আহত হয় এবং ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশের তদন্তে গুলি চালানো চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একরাম দেওয়ান নামটি উল্লেখযোগ্য। দুইটি গোয়েন্দা সংস্থা একত্রে প্রস্তুত করা তালিকায় একরামকে ‘শুটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে তিনি গত শনিবারের পর থেকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং সোমবার পর্যন্ত আটক করা সম্ভব হয়নি।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারী ও অপরাধীর তালিকা তৈরি করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছে। এই তালিকায় মোট প্রায় তিন হাজার নাম অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে ১২৪ জনকে জঙ্গি এবং ৩৫২ জনকে ‘শুটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ মোহাম্মদ আসলাম, যাকে সুইডেন আসলাম নামেও জানা যায়, অন্তর্ভুক্ত।

শেখ মোহাম্মদ আসলামের বিরুদ্ধে বর্তমানে নয়টি হত্যার মামলা এবং মোট বাইশটি মামলা দায়ের রয়েছে। প্রায় বিশ বছর কারাদণ্ড কাটিয়ে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন, তবে পরবর্তীতে আবারও অপরাধে জড়িয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকায় ফিরে আসেন।

গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যার পেছনে রনি নামের প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্র পাওয়া যায়। রনি গ্রেপ্তারে এড়িয়ে চলার ফলে বর্তমানে তিনি অনুসন্ধানের বাইরে রয়েছেন এবং তার নামও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

একরাম দেওয়ান, সুইডেন আসলাম ও রনি ছাড়াও তালিকায় ইমামুল হোসেন (পিচ্চি হেলাল), সানজিদুল ইসলাম (ইমন), এস এম আরমান, খোরশেদ আলম (ফ্রিডম রাসু) সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় তিন হাজার অস্ত্রধারী, শুটার এবং জঙ্গি অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যক্তিদের ভোটের মাঠে সহিংসতা ঘটাতে না দেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর দেশের সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, দুইটি গোয়েন্দা সংস্থা সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশের তিন হাজার অবৈধ অস্ত্রধারী ও অপরাধীর তালিকা প্রস্তুত করে দপ্তরে পাঠিয়েছে। তালিকায় ১২৪ জন জঙ্গি এবং ৩৫২ জন ‘শুটার’ রয়েছে, যাদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর ভোটের আগে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনতে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও আটটি মহানগর পুলিশের কমিশনারকে নির্দেশনা দিয়েছে। এই নির্দেশনা অনুসারে সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর পুলিশ বিভাগগুলোকে দ্রুত গ্রেপ্তার, জব্দ এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার চন্দ্রিমা উদ্যানের লেকের পাশে অভিযান চালিয়ে জিএমবি (যৌথ মুসলিম ব্রিগেড) সদস্য আহসান জহীর খান (বয়স ৫০) গ্রেপ্তার করা হয়। তার সহচররা ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করে, তবে জহীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী দিন অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালু করা হয়।

জহীরের তথ্য অনুসরণ করে পুলিশ অতিরিক্ত সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও অস্ত্র জব্দের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য সন্ত্রাসী ও শুটারদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটের আগে তালিকাভুক্ত অপরাধীদের আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা এবং তাদের সম্ভাব্য সহিংসতা রোধের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments