18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রান্তিক অঞ্চলে অব্যাহত অন্যায় ও রাষ্ট্রের ন্যায়বোধের সংকট

প্রান্তিক অঞ্চলে অব্যাহত অন্যায় ও রাষ্ট্রের ন্যায়বোধের সংকট

প্রান্তিক অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা সাম্প্রতিক সময়ে আবারও অপরাধের শিকার হয়েছে, যা দেশের ন্যায়বোধের মৌলিক সমস্যাকে প্রকাশ করে। এই ঘটনা ঘটেছে দেশের এক দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়ে গেছে।

রাষ্ট্রের মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে ন্যায়বোধকে প্রায়ই উল্লেখ করা হয়, কারণ কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কেবল ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়, তা মানুষের বিশ্বাস ও নিরাপত্তা বোধের উপর নির্ভরশীল। যখন জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, তখন তা কেবল একক পরিবারের দুঃখ নয়, বরং রাষ্ট্রের ন্যায়বোধের গভীর সংকটের সূচক হয়ে ওঠে।

অপরাধী গ্রেফতার করা আইনগত প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ, তবে অভিযোগ উঠেছে যে দুইটি বড় রাজনৈতিক দল প্রশাসনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। এই ধরনের অভিযোগের ফলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, যা আইনের প্রয়োগকে ভয়ের প্রতীকে রূপান্তরিত করতে পারে।

প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণ নতুন আশার আলো দেখায়, আশা করে যে নতুন সরকার অপরাধ ও অন্যায়কে কমাবে। তবে যদি পরিবর্তনের পরেও গ্রামাঞ্চলের বাস্তবতা অপরিবর্তিত থাকে, অর্থাৎ একই ধরনের নিরীহ মানুষ হিংসার শিকার হয়, তবে সেই আশা ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়।

আশাহীন সমাজ দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতা ও অশান্তির ঝুঁকিতে পড়ে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উদাহরণে দেখা যায় যে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পুরনো পদ্ধতি অব্যাহত থাকে।

লাতিন আমেরিকায় কিছু দেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার উপর রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। মেক্সিকো ও ব্রাজিলের কিছু অঞ্চলে অপরাধ দমনের নামে বৃহৎ অভিযান চালানো হয়েছে, তবে পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে নিরীহ জনগোষ্ঠীও সেই অভিযানের শিকার হয়েছে, যা জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাকে ক্ষয় করে।

আফ্রিকায়ও নির্বাচনকালের বা পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলকে দমন করার অভিযোগ উঠে। যদিও স্বল্পমেয়াদে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এমন কৌশল রাজনৈতিক সহিংসতার বীজ বপন করে। এই ধরনের অভিজ্ঞতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি অবিশ্বাস বাড়ায়।

এইসব উদাহরণ থেকে স্পষ্ট যে, পরিবর্তন শুধুমাত্র শিরোনাম পরিবর্তন নয়, বরং ন্যায়বোধের পথে বাস্তব পদক্ষেপের প্রয়োজন। যখন প্রশাসন রাজনৈতিক স্বার্থের অধীন হয়ে যায়, তখন আইনের প্রয়োগের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বোধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

অবশেষে প্রশ্ন রয়ে যায়, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই কি, যেখানে প্রতিটি পরিবর্তন নতুন ন্যায়বোধের সুযোগ হিসেবে কাজ করবে, নাকি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশোধের নতুন অধ্যায় শুরু হবে? জনগণের আশা যদি বারবার নিভে যায়, তবে নতুন আশার আলো জ্বালানোর শক্তি কমে যায়।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি সরকার ন্যায়বোধকে অগ্রাধিকার না দেয়, তবে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। তাই ন্যায়বোধের পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে প্রথমে গ্রামাঞ্চলের বাস্তব সমস্যাগুলো শনাক্ত করে সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রশাসনকে স্বতন্ত্র রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা।

সারসংক্ষেপে, প্রান্তিক অঞ্চলে অব্যাহত অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি রাষ্ট্রের ন্যায়বোধের দুর্বলতা প্রকাশ করে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও যদি বাস্তব পরিবর্তন না আসে, তবে জনগণের আস্থা হ্রাস পাবে এবং সামাজিক অশান্তি বাড়বে। ন্যায়বোধকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং প্রশাসনের স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করা দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments