হেরলেন, নেদারল্যান্ডসের রোমান শহর কোরিওভাল্লুমের ধ্বংসাবশেষে ২০ সেমি ব্যাসের পাথরের গেমবোর্ড পাওয়া গিয়েছে, যার ওপর খোদাই করা রেখা গেমের ক্ষেত্র নির্দেশ করে। শতাব্দীর পরেও গেমের নিয়ম অজানা থাকলেও, লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্ভাব্য নিয়ম বিশ্লেষণ করে বোর্ডের ক্ষয়চিহ্নের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ গেম নির্ধারণ করেছেন।
গবেষণায় লিডার হিসেবে ওয়াল্টার ক্রিস্ট এবং তার দল ১০০ টিরও বেশি সম্ভাব্য নিয়মের সমন্বয় পরীক্ষা করেন। তারা লুডি (Ludii) নামের গেম সিমুলেশন সিস্টেম ব্যবহার করে দুইটি ভার্চুয়াল খেলোয়াড়কে হাজার হাজার গেমে মুখোমুখি করেন, যাতে প্রতিটি নিয়মের অধীনে বোর্ডে যে ধরনের ঘর্ষণ হয় তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
লুডি সিস্টেম গেমের বর্ণনা ভাষা (game description language) ব্যবহার করে বিভিন্ন গেমের কাঠামো তৈরি করে। গবেষকরা রোমান সময়ের পরিচিত গেমের নিয়ম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে টুকরো টুকরো করে নতুন নিয়মের সংমিশ্রণ গড়ে তোলেন, যাতে পাথরের গর্তের দিক ও গভীরতা পুনরায় তৈরি করা যায়।
বিশ্লেষণের ফলাফল দেখায় যে সবচেয়ে সম্ভাব্য গেমটি “ব্লকিং” ধরণের, যেখানে দুইজন খেলোয়াড় পালাক্রমে টুকরা সরিয়ে প্রতিপক্ষের চালকে বাধা দেয়। বোর্ডের আকার ও ক্ষয়চিহ্নের ভিত্তিতে অনুমান করা হয় যে গেমটি দুইজনের জন্যই তৈরি, এবং প্রতিটি চালের ফলে নির্দিষ্ট স্থানে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়।
এই গবেষণার ফলাফলকে সুইজারল্যান্ডের ফ্রিবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরোনিক দাসেন “অগ্রগণ্য” বলে উল্লেখ করেছেন এবং ভবিষ্যতে অনুপস্থিত গেমের গবেষণায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রোমান যুগের গ্রাফিতি বা চিত্রে এমন বোর্ডের চিহ্ন থাকতে পারে, যা এখনো টেক্সটে উল্লেখ পাওয়া যায় না।
হেরলেনের স্থানীয় জাদুঘরে বর্তমানে এই পাথরের বোর্ডটি প্রদর্শিত হচ্ছে, যেখানে দর্শনার্থীরা রোমান সময়ের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশকে স্পর্শ করতে পারেন। যদিও বোর্ডের সুনির্দিষ্ট প্রাচীন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এখনও অজানা, তবে এই আবিষ্কার রোমান গেমের বৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
গবেষকরা উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সিমুলেশন পদ্ধতি ঐতিহাসিক বস্তুগুলোর ব্যবহারিক বিশ্লেষণে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে অন্যান্য প্রাচীন গেমের নিয়ম বা অনুপস্থিত সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের পুনর্গঠন করা সম্ভব হতে পারে।
রোমান সাম্রাজ্যের শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলে গেমের উপস্থিতি নিশ্চিত না হলেও, এই গবেষণা দেখায় যে প্রযুক্তি ও ঐতিহাসিক গবেষণার সমন্বয় নতুন জ্ঞান উন্মোচনে কতটা কার্যকর। পাঠকরা কি এই ধরনের প্রযুক্তিগত পদ্ধতি দিয়ে অতীতের অন্যান্য রহস্য উন্মোচন করতে চান, তা নিয়ে ভাবা যেতে পারে।



