18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপুরান ঢাকাসহ সারা দেশে জলাবদ্ধতা দূর করতে খনন কর্মসূচি শুরু

পুরান ঢাকাসহ সারা দেশে জলাবদ্ধতা দূর করতে খনন কর্মসূচি শুরু

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি তরেক রহমান মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি জাতীয় ভাষণে ঘোষণা করেছেন যে পুরান ঢাকাসহ সারা দেশে জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে ব্যাপক খনন কর্মসূচি শীঘ্রই আরম্ভ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান মৌসুমে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত পানির সঞ্চয় রাস্তাঘাট ও বাসস্থানে বড় সমস্যার সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মৌসুমী বন্যা ও নগর জলের জমাট বাঁধা সমস্যার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে।

বছরের পর বছর ধরে পুরান ঢাকার সংকীর্ণ গলি ও পুরনো নালার অবস্থা অবনতি ঘটেছে; অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অবিরাম সেডিমেন্ট জমা রাস্তাগুলোকে প্রায়ই পানিতে ডুবে রাখে। বিশেষত গ্রীষ্মের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়লে, প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল থেমে যায়, ব্যবসা বন্ধ হয় এবং রোগের বিস্তার বাড়ে। এই ধরণের জলাবদ্ধতা শহরের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে।

প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে পুরনো নালার পরিষ্কার, সেডিমেন্ট অপসারণ এবং নতুন ড্রেনেজ লাইন খননের কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশেষজ্ঞ দলগুলো প্রথমে সবচেয়ে বেশি জলের জমা হওয়া এলাকাগুলো চিহ্নিত করে, সেখান থেকে মাটি ও আবর্জনা সরিয়ে নালার প্রবাহ পুনরুদ্ধার করবে। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কিছু স্থানে আধুনিক কংক্রিট ড্রেন ও পাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের তহবিল কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে সরবরাহ করা হবে এবং স্থানীয় সরকার ও পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রণালয় অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন বিভাগ প্রকল্পের তদারকি করবে, আর সংশ্লিষ্ট শহর কর্পোরেশনগুলো কাজের সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে। সরকার দাবি করে যে, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও প্রযুক্তি ইতিমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে এবং কাজের গতি দ্রুততর করার জন্য অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

তরেক রহমানের মতে, খনন কাজের সূচনা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হবে এবং প্রথম পর্যায়ে পুরান ঢাকায় ১৫টি প্রধান জলের জমা হওয়া সেক্টরে কাজ শুরু করা হবে। পুরো দেশব্যাপী কর্মসূচি সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগবে বলে অনুমান করা হয়েছে। কাজের অগ্রগতি মাসিক ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ফলাফল অনুযায়ী অতিরিক্ত এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হবে।

এই ঘোষণার সময় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্রভাবে গরম, কারণ শীঘ্রই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো পূর্বে সরকারের জলবায়ু ও অবকাঠামো নীতির সমালোচনা করে আসছে এবং এই ধরণের প্রকল্পের দেরি ও অকার্যকারিতার অভিযোগ তুলেছে। তবে সরকার পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে এই পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ এবং নির্বাচনের আগে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য।

ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশন এবং পুরান ঢাকায় কার্যরত পৌরসভা কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, খনন কাজের মাধ্যমে রাস্তায় পানির স্তর দ্রুত কমে যাবে এবং ট্রাফিক জ্যাম হ্রাস পাবে। তারা এছাড়াও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের কাজের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে, শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে বৃষ্টির সময় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠবে, বাজার ও ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে গ্রাহক প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং রোগের ঝুঁকি কমে যাবে। বিশেষত, বৃষ্টির মৌসুমে রোগী ভর্তি কমে যাওয়া এবং জরুরি সেবা পৌঁছাতে সময় কমে যাওয়া প্রত্যাশিত। দীর্ঘমেয়াদে, সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নগর পরিবেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারি দল এখন কাজের সূচি চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট ইউনিটে নির্দেশনা পাঠাচ্ছে এবং জনসাধারণকে জানাচ্ছে যে, খনন চলাকালীন সময়ে কিছু রাস্তা অস্থায়ীভাবে বন্ধ থাকতে পারে। নাগরিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে যাতে যানবাহন ও পায়ে চলা মানুষ নিরাপদে কাজের এলাকা

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments