ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জামাতের আমির আজকের জাতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জানিয়ে দিলেন, তিনি যদি কোনো পদে দায়িত্ব পান, তবে প্রথম দিনই ফজরের নামাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই ঘোষণা তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি ও তৎপরতা প্রকাশের লক্ষ্যে করা হয়।
সমাবেশে আমির উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনি শীঘ্রই পদক্ষেপ নেবেন এবং প্রথম কাজের সূচনা ফজরের পরই হবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় সময়সূচি অনুসরণ করা তার জন্য নৈতিক দায়িত্বের অংশ, যা তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করতে চান।
বক্তব্যের পাশাপাশি আমির উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় বিমান বাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করে ভোটের মাঠের লাইভ ছবি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াবে এবং ফলাফলকে অবৈধ হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করবে।
আমিরের ভাষণে তিনি দেশের সমগ্র জনগণের জন্য সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় নতুন খনন প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সেবা সম্প্রসারণের জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই পরিকল্পনা তার পার্টির পূর্ববর্তী ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সমাবেশটি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা তার প্রতিশ্রুতি শোনার পর উল্লাসে মাতিয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানটি সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে লাইভ স্ট্রিম করা হয়।
অবশ্যই, সরকারী পক্ষ থেকে এই ঘোষণার প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। আওয়ামী লীগ নেতারা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ধর্মীয় সময়সূচি মিশ্রণ করা ভোটারকে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং বাস্তব নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তারা বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত, তবে তা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
বিপিএনও আমিরের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করে, এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তারা বলেন, জামাতের নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের ইচ্ছা দেশের উন্নয়নমূলক কাজকে ত্বরান্বিত করবে এবং জনগণের আস্থা বাড়াবে।
ইলেকশন কমিশন ইতিমধ্যে নির্বাচনের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং ড্রোন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই ব্যবস্থা ভোটের মাঠে অনিয়ম চিহ্নিত করতে রিয়েল-টাইম ডেটা সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমিরের এই ঘোষণা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রকাশিত হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি যদি দায়িত্ব পান, তবে তার প্রথম কাজের সূচনা এবং ড্রোন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উভয়ই তার নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
জামাতের সাম্প্রতিক সময়ে আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, এই ধরনের প্রকাশনা পার্টির পুনরুজ্জীবন ও জনমত গঠনে সহায়তা করতে পারে। তবে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ক্ষমতা এখনও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তীক্ষ্ণ নজরে রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, জামাতের আমিরের ফজরের পর কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি এবং ড্রোনের মাধ্যমে ভোট পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। এই পদক্ষেপগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



