ইউক্রেনের স্কেলেটন রেসার ভ্লাদিস্লাভ হেরাসকেভিচ ২৬ বছর বয়সে শীতকালীন অলিম্পিকের প্রশিক্ষণ সেশনে কর্টিনায় যে হেলমেট পরেছিলেন, তাতে তার দেশের যুদ্ধের শিকারদের ছবি ছিল; আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) সেই হেলমেটের ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
হেরাসকেভিচের হেলমেটের ওপর যুদ্ধের শিকারদের মুখের ছবি, যার মধ্যে কিশোরী ওজন তোলার প্রতিযোগী আলিনা পেরেগুদোবা, বক্সার পাভলো ইশচেনকো এবং আইস হকি খেলোয়াড় অলেক্সি লগিনভ অন্তর্ভুক্ত, তার বন্ধুদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এই ছবিগুলোকে ক্রীড়া মঞ্চে সম্মান জানাতে তিনি অলিম্পিককে একটি সচেতনতা প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে চেয়েছিলেন।
হেলমেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় রেসার গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আইওসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা তার হৃদয়কে ভেঙে দেয় এবং এটি এমন একটি বিশ্বাসঘাতকতা যা অলিম্পিক আন্দোলনের অংশ হওয়া ক্রীড়াবিদদের প্রতি অবিচার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূর্বে আইওসি কিছু সমমানের সম্মানসূচক কাজকে অনুমোদন করলেও এবার ইউক্রেনের জন্য বিশেষ নিয়ম আরোপ করা হয়েছে।
রেসার জানান, আইওসি এই বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনের অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং হেলমেটের ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। তবে আইওসি এখনো জনসাধারণের সামনে এই নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করে না। হেরাসকেভিচের মতে, হেলমেটের ওপর থাকা ছবিগুলো কেবল ক্রীড়াবিদ নয়, যুদ্ধের শিকারদের স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি উপায় ছিল।
ভ্লাদিস্লাভ হেরাসকেভিচ ইউক্রেনের প্রথম স্কেলেটন রেসার এবং ২০২২ সালের বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিকে “ইউক্রেনে যুদ্ধ না” শিরোনামের সাইন ধরে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিগোচরে যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরেছিলেন, যা রাশিয়ার আক্রমণের আগে কয়েক দিন আগে ঘটেছিল।
অলিম্পিক চার্টারের ধারা ৫০.২ অনুযায়ী, অলিম্পিক স্থানে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা জাতিগত প্রচার নিষিদ্ধ। হেরাসকেভিচ এই নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চেয়েছিলেন।
হেলমেটের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আইওসির আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের অপেক্ষা চললেও, রেসার ইতিমধ্যে তার সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে এই বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হেলমেটের মাধ্যমে তিনি যুদ্ধের শিকারদের স্মৃতি ক্রীড়া মঞ্চে সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন, যা এখন আইওসির সিদ্ধান্তের ফলে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ভবিষ্যতে হেরাসকেভিচের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা কীভাবে চালিয়ে যাবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে তিনি অলিম্পিকের মূল নীতিমালা মেনে চলার পাশাপাশি ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।



