ক্যানাডার টরন্টোতে ভিত্তিক ‘Nirvanna the Band the Show the Movie’ ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার থিয়েটারে প্রদর্শনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি একই নামের জনপ্রিয় ওয়েব ও টেলিভিশন সিরিজের পূর্ণদৈর্ঘ্য স্পিন‑অফ এবং মূল স্রষ্টা ম্যাট জনসন ও জে ম্যাককারোলের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে।
সিরিজটি প্রথমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়ে টরন্টোর স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে বড় সাড়া ফেলেছিল, ফলে টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রসারণের সুযোগ পায়। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তৈরি হওয়া চলচ্চিত্রটি একই রকম হাস্যরস ও স্ব-সচেতন শৈলীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
চলচ্চিত্রের পরিচালনা ও চিত্রনাট্য দুটোই ম্যাট জনসন এবং জে ম্যাককারোলের হাতে, যেখানে প্রধান ভূমিকায় উভয়ই নিজেই অভিনয় করেছেন। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে বেন পেট্রি, ইথান এং, মাইকেল স্কট, রিড জানিস, স্টিভ হ্যামেলিন, লুক লালন্ডে, ম্যাডি ওয়াইল্ড এবং মিচ ডেরোসি অন্তর্ভুক্ত। মোট সময়কাল এক ঘণ্টা পঁয়ত্রিশ মিনিট, যা আধুনিক কমেডি ফিল্মের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগে চলচ্চিত্রটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্ক্রিনিং পেয়েছে, যেখানে দর্শক ও সমালোচক উভয়ই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে টরন্টোর স্থানীয় রঙিন দৃশ্যাবলী এবং শহরের পরিচিত স্থাপনাগুলোর ব্যবহারকে প্রশংসা করা হয়েছে।
গল্পের সূচনা ২০০৮ সালে, যখন দুই বন্ধু ও সঙ্গীতশিল্পী ম্যাট জনসন ও জে ম্যাককারোল টরন্টোর ঐতিহ্যবাহী রিভলি ক্লাবে পারফরম্যান্সের সুযোগ পেতে চেয়েছিলেন। এই সময়ের দৃশ্যগুলো মূল ওয়েব সিরিজের আর্কাইভ থেকে নেওয়া ফুটেজের মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, যা দর্শকদের অতীতের স্মৃতি তাজা করে।
বছরের পর বছর কেটে ১৭ বছর পরে, একই লক্ষ্য এখনও অচল রয়েছে। ম্যাট, যাকে প্রায়ই ডক ব্রাউন চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তার অদ্ভুত ধারণা ও পরিকল্পনা দিয়ে আবারো গিগের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করার চেষ্টা করেন। তার পরিকল্পনা টরন্টোর আইকনিক সিএন টাওয়ারের শীর্ষে একটি চমকপ্রদ প্রচারমূলক স্টান্টের ওপর ভিত্তি করে।
এই স্টান্টে টাওয়ারের শীর্ষে পৌঁছে প্যারাশুট দিয়ে লাফ দেওয়া অন্তর্ভুক্ত, যা চলচ্চিত্রের মূল হাস্যরসের এক অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। দৃশ্যটি শহরের স্কাইলাইনের পটভূমিতে রেকর্ড করা হয়েছে এবং টরন্টোর বাসিন্দাদের জন্য পরিচিত স্থানগুলোর সঙ্গে মিশে একটি স্বতন্ত্র কমেডি উপাদান তৈরি করেছে।
শৈলীর দিক থেকে চলচ্চিত্রটি মকুমেন্টারি ফরম্যাটে নির্মিত, যেখানে বাস্তবধর্মী দৃশ্যের সঙ্গে অতিরঞ্জিত কৌতুকের মিশ্রণ দেখা যায়। এতে ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ ও ‘বিল অ্যান্ড টেড’ সিরিজের উল্লেখযোগ্য রেফারেন্স রয়েছে, যা ক্যানাডিয়ান দর্শকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কমেডি প্রেমিকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
প্রাথমিক সমালোচনা অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের হাস্যরসের স্তর কিছু দর্শকের জন্য অতিরিক্ত পুনরাবৃত্তিমূলক হতে পারে, তবে বেশিরভাগই এর স্ব-সচেতনতা ও মেটা-হাস্যরসকে প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে টরন্টোর স্থানীয় রঙিন রসিকতা ও শহরের সংস্কৃতির সূক্ষ্ম উপস্থাপনাকে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু সমালোচক উল্লেখ করেছেন যে চলচ্চিত্রের কিছু দৃশ্য অতিরিক্তভাবে পুরনো রসিকতার ওপর নির্ভর করে, ফলে হাস্যরসের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে সামগ্রিকভাবে, এটি একটি নির্দিষ্ট দর্শক গোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত, যারা স্ব-সচেতন কমেডি এবং স্থানীয় রসিকতাকে পছন্দ করেন।
টরন্টোর শহুরে পরিবেশ, সিএন টাওয়ার, রিভলি ক্লাব এবং স্থানীয় রেস্তোরাঁর উল্লেখ চলচ্চিত্রকে শহরের সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। এই ধরনের স্থানীয় রেফারেন্স ক্যানাডিয়ান চলচ্চিত্রের স্বতন্ত্র স্বাদকে বাড়িয়ে তুলেছে এবং দর্শকদের জন্য পরিচিত পরিবেশে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘Nirvanna the Band the Show the Movie’ একটি নির্দিষ্ট স্বাদের কমেডি, যা টরন্টোর শহুরে রঙ এবং ক্যানাডিয়ান হিউমারের মিশ্রণ উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রটি হাস্যরসের প্রতি সহনশীলতা ও স্বাদ অনুযায়ী উপভোগ করা যেতে পারে, বিশেষ করে যারা মকুমেন্টারি শৈলীর সঙ্গে পরিচিত। আগ্রহী দর্শকদের টিকিট সংগ্রহ করে থিয়েটারে গিয়ে এই অনন্য কমেডি অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া যায়।



