ম্যাডেলেইন পেটশ, ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার্স: চ্যাপ্টার ৩’ এর প্রধান চরিত্র এবং এক্সিকিউটিভ প্রযোজক, ত্রয়ীর সমাপ্তি দৃশ্যের গোপনীয়তা ও নৈকট্য সম্পর্কে সম্প্রতি বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি মায়া লুকাসের ভূমিকায় চার বছর ধরে পুনর্নির্মিত সিরিজের শুটিং ও পোস্ট‑প্রোডাকশন কাজের দায়িত্বে ছিলেন, যা স্ক্রিনের ভিতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই তার অবদানকে তুলে ধরে।
শুটিং প্রক্রিয়া ২০২২ সালের শেষের দিকে একত্রে তিনটি চ্যাপ্টারকে ৫২ দিনের ব্লক‑শুটে সম্পন্ন করা হয়। মোট ২৭৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিপ্টে প্রতিটি দৃশ্যের জন্য বিশদ পরিকল্পনা করা হয়, এবং পেটশ ও প্রযোজক কোর্টনি সোলোমন একসাথে স্ক্রিপ্টের গঠন ও সংলাপকে তীক্ষ্ণ করে তোলেন। এই সময়ে তারা চরিত্রের মানসিক গভীরতা ও গল্পের গতি বজায় রাখতে বিশেষ মনোযোগ দেন।
‘দ্য স্ট্রেঞ্জার্স: চ্যাপ্টার ১’ মে ২০২৪-এ থিয়েটারে প্রকাশিত হয় এবং ৮.৫ মিলিয়ন ডলারের বাজেটের পাঁচ গুণ আয় করে বক্স অফিসে সাফল্য অর্জন করে। তবে দর্শকদের কাছ থেকে কিছু সমালোচনা পাওয়া যায়, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় চ্যাপ্টারের গতি ও চরিত্র বিকাশের বিষয়ে। এই প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্মাতা দল ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অতিরিক্ত শুটিং সেশন যুক্ত করে চ্যাপ্টার ২ ও ৩-এ পুনরায় কাজ করেন।
চ্যাপ্টার ৩-এ মূল শুটিংয়ের মাত্র ২০ শতাংশই শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে; বাকি অংশ পুনর্নির্মাণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করা হয়েছে। চ্যাপ্টার ২-এর মুক্তির তারিখও মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী শীত ২০২৪ থেকে পিছিয়ে হয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ স্থানান্তরিত হয়েছে।
দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য পেটশ লায়ন্সগেটের নির্বাহীদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনা করেন। তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে, এবং শেষ পর্যন্ত কোম্পানি ফেব্রুয়ারি ৬ তারিখে চ্যাপ্টার ৩ মুক্তির জন্য সম্মতি দেয়। এই তারিখটি পূর্বে নির্ধারিত কোনো শিডিউলে না থাকলেও, পেটশের প্রস্তাবের ফলে তা দ্রুত নিশ্চিত হয়।
চ্যাপ্টার ১-এ ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার্স’ নামে পরিচিত তিনটি মাস্কধারী সিরিয়াল কিলার—স্কেয়ারো, পিনআপ গার্ল এবং ডলফেস—মায়ার বাগদত্তা রায়ান (ফ্রয় গুটিয়েরেজ)কে হত্যা করে, যা ভেনাস, ওরেগনের ছোট শহরে ঘটে। মায়া এই ভয়াবহ ঘটনার পর কষ্টকরভাবে বেঁচে থাকে এবং পরবর্তী চ্যাপ্টারগুলোতে তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও প্রতিশোধের গল্প গড়ে ওঠে।
এই ত্রয়ীর নির্মাণে পেটশের দ্বৈত ভূমিকা—অভিনেত্রী ও প্রযোজক—দর্শকদের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেয়। তিনি শুটিংয়ের সময় চরিত্রের মানসিক অবস্থা ও শারীরিক চ্যালেঞ্জ উভয়ই সমন্বয় করে, যাতে দর্শকরা মায়ার যাত্রাকে আরও বাস্তবিকভাবে অনুভব করতে পারে। এছাড়া, পুনর্নির্মাণের সময় যুক্ত অতিরিক্ত শুটিং সেশনগুলোতে তিনি ক্যামেরার সামনে ও পেছনে উভয় দিকেই সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, যা সিরিজের সামগ্রিক গুণগত মানকে উন্নত করেছে।
‘দ্য স্ট্রেঞ্জার্স: চ্যাপ্টার ৩’ এর সমাপ্তি দৃশ্যটি পূর্বের চ্যাপ্টারগুলোর তুলনায় বেশি অন্তর্মুখী ও আবেগপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পেটশের মতে, শেষের মুখোমুখি হওয়া দৃশ্যটি কেবল শারীরিক লড়াই নয়, বরং মায়ার মানসিক মুক্তির প্রতীক। এই দিকটি দর্শকদের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, পুনর্নির্মিত ত্রয়ীটি বক্স অফিসে আর্থিক সাফল্য অর্জন করার পাশাপাশি, গল্পের গঠন ও চরিত্রের বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পেটশের নেতৃত্বে চিত্রনাট্য, শুটিং ও পোস্ট‑প্রোডাকশন প্রক্রিয়ার সমন্বয় একটি সমন্বিত ফলাফল তৈরি করেছে, যা দর্শকদের জন্য একটি তীব্র ও স্মরণীয় সিনেমা অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
প্রকাশের পর থেকে, চলচ্চিত্রটি সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে দর্শকরা মায়ার শেষের দৃশ্যের নৈকট্য ও আবেগগত গভীরতাকে প্রশংসা করছেন। ত্রয়ীর শেষ অধ্যায়টি ফেব্রুয়ারি ৬ তারিখে থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে, এবং এটি সিরিজের সমাপ্তি হিসেবে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।



