বিএনপি নেতা তরিক রহমান শেরে বাংলা নগরে শনিবার রাত ১১টায় বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সমাধি পরিদর্শন করেন। তিনি দলীয় উচ্চপদস্থ নেতাদের সঙ্গে কবর জিয়ারতের জন্য গন্তব্যে পৌঁছান, যা তার নির্বাচনী সফরের সমাপনী অনুষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেশী কবরস্থানে পৌঁছানোর আগে, তরিক রহমান রাত ৯টায় ঢাকার লালবাগ বালুর মাঠে শেষ জনসভায় বক্তব্য দেন। এই সমাবেশটি ঢাকার আটটি আসনে তার নির্বাচনী প্রচারণার সমাপ্তি সূচক হিসেবে কাজ করে এবং তিনি সেখানে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে শেষবারের মতো সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন, যিনি তরিকের সঙ্গে কবর জিয়ারতেও অংশ নেন, গত দুই দিনে ঢাকা মহানগরীর ১৪টি আসনে সমাবেশের আয়োজন করেন। প্রতিটি সমাবেশে তিনি দলের নীতি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন, যা শহরের বিভিন্ন ভোটার গোষ্ঠীর মনোযোগ আকর্ষণ করার লক্ষ্য রাখে।
তরিকের নির্বাচনী সফর ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে শুরু হয়। সেখান থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে সমাবেশের আয়োজন করেন, যার মধ্যে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো অন্তর্ভুক্ত। এই প্রারম্ভিক সমাবেশটি তার ক্যাম্পেইনের ভিত্তি স্থাপন করে এবং দলের ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য বহন করে।
মোট নয় দিনব্যাপী, তরিক রহমান দেশের ৪১টি জনসভায় অংশ নেন। এদের মধ্যে ঢাকার বেশিরভাগ আসন, পাশাপাশি রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রাজবাড়ি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলো অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি সমাবেশে তিনি দলের মূল নীতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর জোর দেন।
বিএনপি নেতারা কবর জিয়ারতকে পার্টির ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করেন। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধি পরিদর্শন দলীয় ঐক্য ও ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রতীকী কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই অনুষ্ঠানটি পার্টির ভিত্তিক সমর্থকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগাতে সহায়তা করে।
অবশ্যই, বিরোধী দলও এই ঘটনাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি একাধিক মেয়াদে দেশের শীর্ষে অধিষ্ঠিত এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি, তার সরকারী নীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা করে বিএনপির এই প্রচারণা ও কবর জিয়ারতকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তার সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই ধরনের সমাবেশগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
কবর জিয়ারতের সময় তরিক এবং অন্যান্য নেতারা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই ধরনের অনুষ্ঠান পার্টির অভ্যন্তরে মনোবল বাড়াতে এবং সমর্থকদের মধ্যে সংহতি জোরদার করতে সহায়তা করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তরিকের এই বিস্তৃত ক্যাম্পেইন ও কবর জিয়ারতের সমন্বয় ভবিষ্যৎ ভোটার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা ও সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় তার উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে পার্টির প্রতি ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে, বিএনপি সম্ভবত বাকি বাকি আসনে সমাবেশের পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে এবং ভোটার সংযোগ বাড়াতে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবে। তরিকের দলীয় কাঠামো ও সংগঠনের দক্ষতা এই পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যাতে নির্বাচনী ফলাফলকে অনুকূল করা যায়।
সারসংক্ষেপে, তরিক রহমানের নির্বাচনী সফর শেষের দিকে এসে পৌঁছেছে, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে শেরে বাংলা নগরে কবর জিয়ারত অন্তর্ভুক্ত। এই অনুষ্ঠানটি পার্টির ঐতিহাসিক শিকড়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে, ভোটারদের সঙ্গে শেষ সংযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। এখন দলটি বাকি আসনে সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা আসন্ন নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



