18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
HomeঅপরাধASK স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছে মাদারিপুরে কারাবাসে মৃত্যুর মামলায়

ASK স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছে মাদারিপুরে কারাবাসে মৃত্যুর মামলায়

মাদারিপুরের কালকিনি উপজেলায় ৭ ফেব্রুয়ারি যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে ২৯ বছর বয়সী রুসেল কাজি গ্রেফতার হন; পরের দিনই তিনি জোরপূর্বক হিংসা সাপেক্ষে মারা যান। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সলিশ কেন্দ্র (ASK) স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে এই ঘটনাকে সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিযুক্ত করেছে।

মিডিয়া সূত্র এবং পরিবারিক তথ্য অনুযায়ী, রুসেল কাজি ৭ ফেব্রুয়ারি কালকিনি উপজেলায় পরিচালিত যৌথ অপারেশনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হন। গ্রেফতারের পরপরই তাকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয় এবং ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে নির্যাতনের ফলে শারীরিক ক্ষতি উল্লেখ করা হয়েছে।

ASK রুসেল কাজির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মিরপুরের দরুস সালাম সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে ৯ ফেব্রুয়ারি ঘটিত আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করে। ঐ দিনে ইমতিয়াজ হোসেন রকি, যিনি ২০১৪ সালে পল্লবী পুলিশ স্টেশনে আটক হয়ে মারা যাওয়া ইশতিয়াক হোসেন জোনির ভাই, তার বাড়িতে সেনা কর্মীরা রাত ৩:১০ টায় প্রবেশ করে তাকে গ্রেফতার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

রকির পরিবার দাবি করে যে সেনা কর্মীরা বাড়ি অনুসন্ধান করার সময় তার ব্যক্তিগত সামগ্রী নষ্ট করে এবং তাকে অবৈধ অস্ত্রের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য বাধ্য করে। ক্যাম্পে তাকে হুমকি জানিয়ে বলা হয় যে তিনি যদি কোনো আপত্তি করেন বা বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেন তবে কঠোর শাস্তি ভোগ করবেন। এছাড়া তাকে এমন একটি নথিতে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করা হয় যা তিনি পড়তে পারেননি এবং তা তাকে কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

রকির ভাই ইশতিয়াক হোসেন জোনি ২০১৪ সালে পল্লবী পুলিশ স্টেশনে আটক অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন; রকি তার হত্যাকাণ্ডের মামলায় মূল অভিযোগকারী। রকির উপর আরোপিত এই নতুন হুমকি ও নির্যাতনকে ASK মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ASK উল্লেখ করেছে যে উভয় ঘটনার মাধ্যমে সংবিধানের ধারা ৩১, ৩২ ও ৩৫, ২০১৩ সালের নির্যাতন ও কারাবাসে মৃত্যুর নিষেধাজ্ঞা আইন, দণ্ডবিধি এবং জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কনভেনশন লঙ্ঘিত হয়েছে। সংস্থা দাবি করে যে এই ধরনের কাজের ফলে মৌলিক মানবাধিকারের সরাসরি ক্ষতি হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন।

সংস্থা এছাড়াও ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে পুনরায় কোনো হুমকি বা নির্যাতনের সম্ভাবনা না থাকে।

ASK স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি স্বতন্ত্র কমিটি গঠন বা উচ্চ আদালতে মামলাটি দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছে। তারা দাবি করে যে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা সংস্থার হস্তক্ষেপ না থাকলে সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।

প্রতিবেদন অনুসারে, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে ঘটনাগুলোর প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে, তবে ASK এর মতে তা যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। ভবিষ্যতে আদালত বা বিশেষ তদন্ত কমিটির রায়ের ওপর ভিত্তি করে যথাযথ শাস্তি ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা গৃহীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments