মুম্বাইতে জনপ্রিয় ইউটিউবার রনবীর আল্লাহবদিয়া এবং কমেডি শো ‘ইন্ডিয়াজ গট লেটেন্ট’‑এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি মুম্বাই কমিশনার ও মহারাষ্ট্র মহিলা কমিশনে দাখিল করা হয়েছে এবং শোতে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করার অভিযোগে তাদের কঠোর শাস্তি চাওয়া হয়েছে।
শোতে রনবীর আল্লাহবদিয়া একটি প্রতিযোগীর কাছে এমন প্রশ্ন করেন যা শোনার পর দর্শক ও সহ-নিয়ন্ত্রকরা বিস্মিত হয়। প্রশ্নটি ছিল, “আপনি কি আপনার বাবা-মা প্রতিদিন যৌনমিলন করতে দেখবেন, নাকি একবার অংশগ্রহণ করে তা চিরতরে বন্ধ করবেন?” এই ধরনের অশ্লীল ও অনুপযুক্ত প্রশ্নের ফলে শোতে উপস্থিত বিচারক ও অতিথিরা অবাক হয়ে নীরব হয়ে যান।
প্রতিযোগীকে প্রশ্ন করা রনবীরের সঙ্গে শোয়ের সহ-হোস্ট, ইনফ্লুয়েন্সার আপূর্বা মাখিজা, কমেডিয়ান সাময় রেইনা এবং শোয়ের আয়োজক দলকেও অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শোয়ের পরিবেশে ব্যবহার করা ভাষা এবং প্রশ্নের প্রকৃতি দর্শকদের নৈতিকতা ও সামাজিক মানদণ্ডের বিরোধী।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনাভিস এই ঘটনার পর মন্তব্য করেন, “সবার বাকস্বাধীনতা আছে, তবে অন্যের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজে কিছু নিয়ম আছে, সেগুলি লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন, তবে এখনও সরাসরি দেখেননি।
এই ঘটনার ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল কন্টেন্ট তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দেন, অনলাইন মিডিয়ার দ্রুত বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োজন, যাতে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দ্রুত সনাক্ত ও সরিয়ে ফেলা যায়।
শোয়ের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনও কোনো সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা রনবীর ও সাময় রেইনার ওপর তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেছে এবং শোকে ‘অশ্লীল কমেডি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এই আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি, সাময় রেইনার শোতে পূর্বে আরুণাচল প্রদেশের মানুষদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করা একজন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর শোটি আবার মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মুম্বাইয়ের মহিলা কমিশনের দায়িত্ব হল লিঙ্গভিত্তিক হেনস্থা ও অবমাননা রোধ করা, এবং তারা এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের মতে, শোতে ব্যবহৃত ভাষা এবং প্রশ্নের প্রকৃতি নারীর মর্যাদা ও সামাজিক নৈতিকতার প্রতি আঘাতকারী হতে পারে।
শোয়ের আয়োজক দল এখন আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে শোটি বন্ধ করা, সংশ্লিষ্টদের জরিমানা বা কারাদণ্ডের মতো শাস্তি হতে পারে।
বিনোদন শিল্পে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে শিল্প সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে ইউটিউব ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কন্টেন্টের জন্য স্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি করা জরুরি।
জনসাধারণের দৃষ্টিতে, এই ঘটনার ফলে শোয়ের প্রতি আস্থা কমে গেছে এবং দর্শকরা এখনো পর্যন্ত শোটি পুনরায় দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করা মন্তব্যগুলোতে বলা হয়েছে, “বিনোদন হওয়া উচিত মজার, না যে আপত্তিকর ও অশ্লীল।”



