18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচনী এলাকায় মিছিল-সভা নিষেধাজ্ঞা ১০-১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর

নির্বাচনী এলাকায় মিছিল-সভা নিষেধাজ্ঞা ১০-১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর

ইলেকশন কমিশন (ইসি) সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, নির্বাচনী এলাকায় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত মিছিল, জনসভা ও শোভাযাত্রা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের পূর্ব‑পরবর্তী সময়কে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে এবং একই দিনে জুলাই মাসে প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিনেই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ গণপ্রক্রিয়া একসাথে পরিচালিত হওয়ায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইসির মতে, নির্বাচন আচরণবিধি অনুসারে ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে সকল নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করতে হয়। তাই ভোটের আগে শেষ প্রচার সময়কালটি ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে, ভোটের পরের ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো জনসাধারণের সমাবেশ অনুমোদিত নয়, যা মোট চার দিনের সময়সীমা গঠন করে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ধারা অনুযায়ী, এই চার দিনের সময়কালে নির্বাচনী এলাকার কোনো অংশে মিছিল, শোভাযাত্রা বা জনসভা আয়োজন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে।

এই নিষেধাজ্ঞা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে কার্যকর হবে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বজায় থাকবে। সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে আবার জনসমক্ষে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ মিলবে।

বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে ভোটের আগে তাদের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সুযোগ সীমিত করার হিসেবে দেখেছে এবং কিছু নেতার কাছ থেকে উদ্বেগের প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, শাসক দল এই পদক্ষেপকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে। উভয় দিকই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।

ইসির পূর্ববর্তী নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। পূর্বে ঘোষিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেমন নির্বাচনী এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন, এই নতুন বিধিনিষেধের কার্যকারিতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রচারের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো মিডিয়া, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং গৃহপরিদর্শনের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাবে। বিশেষ করে সামাজিক মিডিয়া ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনকে প্রধান প্রচার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

ইতিহাসে পূর্বে নির্বাচনের সময় অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তবে এইবারের সময়সীমা এবং সময়ের নির্দিষ্টতা পূর্বের তুলনায় বেশি কঠোর। অতএব, নির্বাচনী কর্মকর্তারা এই বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে তদারকি দল গঠন করেছে।

জনসাধারণের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু নাগরিক নিরাপদ ভোটের জন্য এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার অন্যরা মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইসির শেষ নোটে বলা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবে এবং নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই নীতি অনুসরণ করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মিছিল-সভা নিষিদ্ধ করা একটি প্রাক-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিচালনা এবং সংবিধান সংশোধনী গণভোটের সুষ্ঠু সম্পাদনের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিধিনিষেধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নির্দেশনা জারি করা হতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments