বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ১৯ দিনব্যাপী নির্বাচনী সফর সমাপ্তির চিহ্ন হিসেবে ঢাকার জিয়া উদ্যানের সমাধিস্থলে গিয়ে পিতামাতার সমাধিতে প্রার্থনা করেন। সোমবার রাত প্রায় ১১ টায় তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আনিসুর রহমান জিকো ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধি পরিদর্শন করেন। এই কর্মসূচি তারেকের ১৯ দিনের প্রচারাভিযানের শেষ অধ্যায় হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
সমাধিস্থলটি দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ, যেখানে দুইজন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সমাধি অবস্থিত। তারেকের সঙ্গে বিএনপি উচ্চপদস্থ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা সমাবেশে শোক ও সম্মানসূচক নীরবতা বজায় রাখেন। সমাধিতে পৌঁছানোর পর তিনি মাথা নেড়ে প্রার্থনা করেন এবং পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রার্থনা শেষ করার পর, তারেকের দিনটি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছিল ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আটটি নির্বাচনী র্যালি পরিচালনা করে। র্যালিগুলোতে তিনি ভক্তদের সঙ্গে সংলাপ স্থাপন করে পার্টির মূল মন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। র্যালি শেষে উপস্থিত ভক্তদের উল্লাস ও সমর্থন স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
১৯ জানুয়ারি ২২ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারাভিযানে তারেক ২৬টি জেলার মধ্যে ২৯টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে র্যালি ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন। রাজধানী ঢাকায় তিনি মোট ১৫টি নির্বাচনী ইভেন্টে ভাষণ দিয়েছেন, যেখানে পার্টির নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এই সংখ্যাগুলো তারেকের সক্রিয় উপস্থিতি ও পার্টির সংগঠনের বিস্তৃত পরিধি নির্দেশ করে।
সমাধি সফরের সময় তারেকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা, যারা পার্টির ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপের মাধ্যমে তিনি পার্টির ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিএনপি’র এই সমাপনী কার্যক্রমের প্রতি বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া তীব্রভাবে লক্ষ্য করা গেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা পার্টির এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক নাটক হিসেবে উল্লেখ করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তারা একই সঙ্গে দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বেও জোর দিয়েছেন।
সমাধি সফর এবং র্যালি সমাপ্তি বিএনপি’র জন্য নির্বাচনী যাত্রার শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে পার্টি তার পিতামাতার রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে ভোটারদের কাছে পুনরায় উপস্থাপন করতে চায়। এই ধরনের প্রতীকী কাজ ভোটারদের মধ্যে পার্টির প্রতি আবেগিক সংযোগ জোরদার করতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হওয়ায় পার্টি এখন থেকে ভোটার সংযোগ, ভোটার তালিকা আপডেট এবং মাঠ পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমে মনোযোগ দেবে। সমাধি সফরের মাধ্যমে তারেকের ব্যক্তিগত ও পার্টিগত প্রতিশ্রুতি উভয়ই স্পষ্ট হয়েছে, যা ভোটারদের কাছে পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সমাধি পরিদর্শন ও প্রার্থনা একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি, যা নেতাদের পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়। তারেকের এই পদক্ষেপটি তার পারিবারিক ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক মঞ্চে পুনরায় তুলে ধরার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা যায়।
প্রচারণা চলাকালীন তারেকের দল বিভিন্ন জেলা থেকে সমর্থন সংগ্রহ করেছে, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় পার্টির ঐতিহাসিক ভিত্তি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় নেতা ও স্বেচ্ছাসেবকরা পার্টির সংগঠনের শক্তি ও কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছেন।
বিএনপি’র নেতৃত্বের মতে, পিতামাতার আদর্শ ও নীতি আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং ভোটারদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তাই সমাধি সফরকে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সূচনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যেখানে পার্টি তার রাজনৈতিক মঞ্চে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে চায়।
সমাপনী র্যালি ও সমাধি সফরের পর, তারেকের দল আগামী সপ্তাহে নির্বাচনী ফলাফল পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য প্রস্তুতি নেবে এবং প্রয়োজনীয় কৌশলগত সমন্বয় করবে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে পার্ট



