দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শ্রেণীর গৃহযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লায়ন্সের স্পিনার মুল্ডার মাত্র ছয় রানে সাতটি উইকেট নেন। ম্যাচটি সোমবার জোহানেসবার্গের দা ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কাওয়াজুলু-নাটাল ইনল্যান্ডের বিপক্ষে লায়ন্সের পারফরম্যান্স আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। মুল্ডারের এই পারফরম্যান্সই দলকে দ্রুত শীর্ষে নিয়ে যায়।
টস জিতে লায়ন্স প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ ওভারে ২৯ রানে তিনটি উইকেট হারায় কাওয়াজুলু-নাটাল। ব্যাটিং শেষ হওয়ার পর লায়ন্সের দ্রুত গতি বজায় রাখতে মুল্ডারকে বোলার হিসেবে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি মেডেন দিয়ে বোলিং শুরু করেন এবং প্রথম ওভারেই কোনো রান না দিয়ে মেইডেন সম্পন্ন করেন।
দ্বিতীয় ওভারে ২৭ বছর বয়সী বেন কম্পটনকে এলবিডব্লিউ করে মুল্ডার প্রথম উইকেট নেন। কম্পটনের ব্যাটিং শৈলীকে সঠিক লাইন ও লম্বে দিয়ে বাধা দিয়ে তিনি দ্রুত ব্যাটসম্যানকে আউট করিয়ে দেন। এই উইকেটের পর কোর্টে মুল্ডারের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরবর্তী ওভারে শন গিলসনকে ক্যাচ-বিহাইন্ডে আউট করা হয়। গিলসনের আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাওয়াজুলু-নাটালের স্কোরে কোনো রান যোগ হয় না, ফলে লায়ন্সের দমনাত্মক বোলিং পরিকল্পনা আরও দৃঢ় হয়। মুল্ডার এই দুইটি উইকেটের মাধ্যমে দলের জন্য বড় চাপ তৈরি করেন।
চতুর্থ ওভারে মুল্ডার দুইটি রান দেন, তবে কোনো উইকেট না পেয়ে তিনি আবারও দমবন্ধ রাখেন। এই ওভারে তিনি গতি ও লাইন বজায় রেখে ব্যাটসম্যানদের স্কোরিং সুযোগ সীমিত রাখেন।
পঞ্চম ওভারে তিনি চারটি রান দিয়ে একটি অতিরিক্ত উইকেট নেন। এই উইকেটের ফলে কাওয়াজুলু-নাটালের ব্যাটিং ক্রমে বড় ফাঁক তৈরি হয় এবং লায়ন্সের বোলিং আক্রমণ পুনরায় তীব্র হয়।
ষষ্ঠ ওভারে মুল্ডার আরেকটি উইকেট নেন, যা দলের মোট উইকেটের সংখ্যা ছয় করে বাড়িয়ে দেয়। এই পর্যায়ে কাওয়াজুলু-নাটালের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত স্কোর করতে পারছে না, ফলে লায়ন্সের জয় নিশ্চিতের পথে অগ্রসর হয়।
সপ্তম ওভারে মাত্র পাঁচটি ডেলিভারিতে তিনি তিনটি অতিরিক্ত উইকেট নেন, ফলে মোট সাতটি উইকেটের সঙ্গে মাত্র ছয় রানে শেষ হয়। এই ওভারটি মুল্ডারের বোলিং দক্ষতার শীর্ষ উদাহরণ, যেখানে তিনি লাইন, লম্বা এবং স্পিনের সমন্বয়ে ব্যাটসম্যানদের সম্পূর্ণভাবে নিস্তব্ধ করে দেন।
মুল্ডারের শেষ পরিসংখ্যান ৬.৫ ওভার, ৪ মেইডেন, ৬ রান, ৭ উইকেট। এই পারফরম্যান্সটি তার প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ বোলিং ফিগার হিসেবে রেকর্ড হয়। তার এই সাফল্য লায়ন্সের জয়কে দৃঢ় করে এবং দলকে পরবর্তী রাউন্ডে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
মুল্ডার ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকান টেস্ট ক্রিকেটে ব্যক্তিগত ইনিংসের সর্বোচ্চ রেকর্ড ধারণ করেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি ৩৬৭ রানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইনিংস তৈরি করেন, যা ব্রায়ান লারার ৪০০ রানের বিশ্ব রেকর্ডের কাছাকাছি। এই রেকর্ড তার বহুমুখী দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
লায়ন্সের পরবর্তী ম্যাচে তারা একই মৌসুমের অন্য একটি গৃহযুদ্ধের দলকে মুখোমুখি হবে, যেখানে মুল্ডারের বোলিং ক্ষমতা আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দলটি এই জয়কে ভিত্তি করে শীর্ষে উঠে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।



