Workday, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং সফটওয়্যার প্রদানকারী, সোমবার ঘোষণা করেছে যে সিইও কার্ল এসচেনবাখ তৎক্ষণাৎ পদত্যাগ করে কোম্পানির বোর্ড থেকেও সরে যাচ্ছেন। এর ফলে সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন সিইও আনিল ভূসরী পুনরায় সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নেতৃত্বের পরিবর্তনটি কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কৌশলকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কার্ল এসচেনবাখ ডিসেম্বর ২০২২-এ Workday-এ যোগদান করেন, তখনই তিনি আনিল ভূসরীর সঙ্গে সহ-সিইও হিসেবে নিযুক্ত হন। ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে তিনি একক সিইও হিসেবে কাজ করছিলেন, তবে এখন তিনি কোম্পানি ত্যাগ করছেন এবং বোর্ডের সদস্যপদও ত্যাগ করছেন। আনিল ভূসরী ২০০৯ সাল থেকে Workday-কে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কখনো একক সিইও, কখনো সহ-সিইও হিসেবে, এবং ২০২৪ থেকে তিনি এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। কোম্পানি নিশ্চিত করেছে যে ভূসরী স্থায়ীভাবে সিইও পদে ফিরে আসছেন, কোনো অস্থায়ী পদ নয়।
নতুন সিইও ভূসরী প্রেস রিলিজে উল্লেখ করেছেন যে Workday এখন তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রবেশ করছে। তিনি বলছেন, AI একটি বৃহত্তর রূপান্তর, যা SaaS-এর চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে এবং আগামী প্রজন্মের বাজারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারণ করবে। তিনি নিজেকে পুনরায় সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে উদ্দীপ্ত বোধ করছেন এবং প্রেসিডেন্ট গেরিট কাজমায়ার ও রব এনস্লিনের সঙ্গে কাজ করার সুযোগে উচ্ছ্বসিত।
গত ফেব্রুয়ারিতে Workday তার কর্মশক্তির ৮.৫% বা প্রায় ১,৭৫০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করে ছিল। সেই সময়ে এসচেনবাখ উল্লেখ করেন যে AI যুগে শ্রমের নতুন পদ্ধতি প্রয়োজন। এই ছাঁটাই কোম্পানির AI-ভিত্তিক পণ্য উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করেছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন।
নেতৃত্বের এই পরিবর্তনটি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কারণ ভূসরী কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত দিকনির্দেশনা জানেন। তার পুনরায় সিইও হওয়া শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে স্থিতিশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত দিতে পারে, বিশেষ করে AI-তে বিনিয়োগ বাড়ানোর সময়। তবে একই সঙ্গে, শীর্ষ নেতৃত্বের ঘূর্ণন এবং সাম্প্রতিক ছাঁটাই কর্মচারী মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে, যা পণ্য উন্নয়ন ও গ্রাহক সেবায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
AI-কে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা Workday-কে ক্লাউড-ভিত্তিক সফটওয়্যার বাজারে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করতে পারে। যদি কোম্পানি সফলভাবে AI-সক্ষম ফিচার যুক্ত করে, তবে গ্রাহকরা প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়করণ ও ডেটা বিশ্লেষণে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারে, যা বিক্রয় বৃদ্ধি ও চুক্তি রিটেনশন উন্নত করবে। অন্যদিকে, AI প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং ডেটা গোপনীয়তা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জগুলোও ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে Workday-এ সিইও পরিবর্তন এবং AI-তে জোর দেওয়া কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারা সতর্ক করছেন যে নতুন নেতৃত্বের অধীনে কৌশল বাস্তবায়ন কত দ্রুত হবে এবং কর্মশক্তি পুনর্গঠন কতটা মসৃণ হবে, তা মূল নির্ধারক হবে। যদি AI-ভিত্তিক পণ্যগুলো গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণ করে, তবে Workday ক্লাউড-সফটওয়্যার সেক্টরে শীর্ষস্থান বজায় রাখতে পারবে। অন্যথায়, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত AI সমাধান চালু করে বাজার শেয়ার বাড়াতে পারে।
সারসংক্ষেপে, Workday-এ সিইও পদে পুনরায় আনিল ভূসরীর প্রত্যাবর্তন এবং AI-কে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা কোম্পানির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা, কর্মশক্তি পুনর্গঠন এবং AI পণ্যের বাজার গ্রহণযোগ্যতা এই পরিবর্তনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।



