ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কীর্স স্টারমার আজ সন্ধ্যায় শ্রম দল সংসদ সদস্যদের সামনে তার নেতৃত্বের স্থিতি পরীক্ষা করতে যাচ্ছেন। সরকারটি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ত্যাগের পর অস্থির অবস্থায় রয়েছে, এবং স্টারমারের ভবিষ্যৎ এখন স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতি পশ্চিমমিনস্টারকে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ফেলেছে, যেখানে কর্মী পরিবর্তন এবং স্কটল্যান্ডের শ্রম দলের নেতার সরাসরি সমালোচনা একসাথে ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে থাকা অস্থিরতা গত কয়েক সপ্তাহে তীব্রতর হয়েছে, কারণ তার প্রশাসনের মূল স্তরে একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এই পরিবর্তনগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণের ধারাবাহিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সরকার কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে।
প্রথমে, প্রধানমন্ত্রীয়ের প্রধান কর্মী মর্গান ম্যাকসফিনি হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শক সৃষ্টি করে। ম্যাকসফিনি সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন, এবং তার প্রস্থান সরকারী ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়।
এরপর, যোগাযোগ বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম অ্যালানও একই সময়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অ্যালানের প্রস্থান প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া কৌশল এবং পাবলিক রিলেশনসের জন্য বড় ধাক্কা, যা সরকারের বার্তা প্রেরণে অতিরিক্ত জটিলতা যোগ করেছে।
এই দু’জনের একসাথে প্রস্থানকে কিছু বিশ্লেষক ‘প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশের অভাব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, কারণ উভয়ই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতেন। ফলে, স্টারমারকে এখন নিজের নেতৃত্বের ক্ষমতা পুনরায় প্রমাণ করতে হবে, নতুবা সরকার আরও অস্থির হয়ে পড়তে পারে।
দুপুরের পর, স্কটল্যান্ডের শ্রম দলের নেতা আনাস সারওয়ার সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে এবং প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। সারওয়ার স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার মন্তব্য সরকারকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলেছে।
সারওয়ার যখন এই মন্তব্য করেন, তখন তিনি স্কটল্যান্ডের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ছিলেন, যেখানে পূর্বে শ্রম দলকে স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী পদে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (SNP) শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা ২০২৬ সালের হোলিরুড নির্বাচনে শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
SNP এখন তৃতীয় দশক ধরে স্কটল্যান্ডে স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার জন্য একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট দাবি করছে, যা শ্রম দলের পূর্বাভাসকে বিপর্যস্ত করেছে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তন স্কটল্যান্ডের শ্রম দলের নেতাকে তার অবস্থান রক্ষা করতে কঠোরভাবে কথা বলতে বাধ্য করেছে।
সারওয়ার-এর এই সরাসরি আহ্বান স্টারমারের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে; যদি তিনি স্বল্পমেয়াদে এই সমালোচনা অতিক্রম করতে না পারেন, তবে তার নেতৃত্বের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। শ্রম দলের অভ্যন্তরে এই সমালোচনা কীভাবে গ্রহণ করা হবে, তা স্টারমারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারওয়ার-এর মন্তব্যের পরই শ্রম দলের ক্যাবিনেট সদস্যদের সামাজিক মাধ্যমে সমর্থনমূলক বার্তা প্রকাশ শুরু হয়। একে একে বিভিন্ন মন্ত্রী তাদের সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সরকারী ঐক্যের একটি প্রকাশ।
প্রাক্তন শ্রম দলের উপ-নেত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং বর্তমান উপ-নেত্রী লুসি পাওয়েলও একই সময়ে তাদের সমর্থন প্রকাশ করেন। রেইনারের পোস্টে তিনি সরকারের বর্তমান চ্যালেঞ্জের মুখে একতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, আর পাওয়েল সরকারকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্যাবিনেটের এই প্রকাশ্য সমর্থন সাধারণত স্বাভাবিক বলে ধরা হয়, তবে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় এটি সংবাদযোগ্য হয়ে উঠেছে, কারণ পূর্বে কেউ জানত না তারা পাবলিকভাবে সমর্থন জানাবেন কি না। এই পরিস্থিতি শ্রম দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধের মাত্রা এবং নেতৃত্বের উপর চাপকে স্পষ্ট করে।
আজ সন্ধ্যায় স্টারমার পার্লামেন্টে শ্রম দল সংসদ সদস্যদের সামনে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন। তিনি কীভাবে সরকারকে পুনরায় স্থিতিশীল করবেন এবং বর্তমান সমালোচনার মোকাবিলা করবেন, তা এই সেশনের মূল বিষয় হবে।
স্টারমারের ভবিষ্যৎ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে; সরকারী কাঠামোর পরিবর্তন, স্কটল্যান্ডের রাজনৈতিক চাপ এবং শ্রম দলের অভ্যন্তরীণ সমর্থনের পরিবর্তন তার নেতৃত্বের স্থায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। পরবর্তী কয়েক দিন এই চ্যালেঞ্জের সমাধান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



