১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে রাষ্ট্র টেলিভিশনে দেশব্যাপী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শাসন, সংস্কার ও নাগরিক কল্যাণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। নির্বাচনের দিন কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে দলগুলো ন্যায়পরায়ণ, দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রার্থীদের সমর্থন দাবি করা হয়েছে।
কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (CPB) সভাপতি কাজী সাজাদ জাহির চন্দন গভীর কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত দিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে অসমতা, গণতন্ত্রের অবনতি এবং জীবনযাত্রার মান হ্রাস দেশের মৌলিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এই সংকটের সমাধানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই ২০২৪ সালের উত্থানকে রেফারেন্স হিসেবে তুলে ধরেছেন।
চন্দন সরকারকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনতে চেয়েছেন। তিনি সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, বিনামূল্যে শিক্ষা, পরিবারভিত্তিক কর্মসংস্থান গ্যারান্টি, খাদ্য রেশন এবং শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, এই নীতিগুলো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভোটারদের ম্যানিপুলেশন থেকে রক্ষা পেতে তিনি ‘কুড়ি’ চিহ্নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। কুড়ি চিহ্নকে শোষণ শেষ, বৈষম্য হ্রাস এবং শ্রমিকদের সংসদে কণ্ঠস্বর দেওয়ার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি ভোটারদের এই চিহ্নের মাধ্যমে তাদের পছন্দ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ন্যায়পরায়ণ, দুর্নীতিমুক্ত ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের দাবি করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন করা যথেষ্ট নয়; পুরো ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। তার মতে, শাসনব্যবস্থার মূল কাঠামো বদল না করলে সত্যিকারের পরিবর্তন সম্ভব নয়।
মামুনুল হক যুবকদের জন্য চাকরির গ্যারান্টি, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য, নারীর নিরাপত্তা এবং শ্রমিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি শাসনকে ন্যায় ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে গড়ে তোলার কথা বলেছেন এবং রিকশা চিহ্নের প্রার্থী ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ভোটদানকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত। এই বার্তাটি তার সমর্থকদের মধ্যে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আস্থা জাগাতে লক্ষ্য করে।
অবৈধ পার্টি (AB) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূইয়ান মঞ্জুর নির্বাচনকে ‘আসল গণতন্ত্রের সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি পূর্ববর্তী নির্বাচনের ব্যর্থতা তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ ২.০’ নামে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, যেখানে ন্যায়, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকারকে কেন্দ্রে রাখা হবে।
AB পার্টির অগ্রাধিকার তালিকায় সংবিধান ও নির্বাচনী সংস্কার, জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা, যুব কর্মসংস্থান, শিক্ষা সংস্কার এবং দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সহিংসতার শূন্য সহনশীলতা অন্তর্ভুক্ত। এই নীতিগুলোকে তিনি দেশের উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
মঞ্জুর ভোটারদের তার পার্টির প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল শাসন নিশ্চিত হয়। তিনি ভোটারদেরকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করেছেন।
নির্বাচন ও গণভোটের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো ভোটার mobilization-এ তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে। ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বাড়লে নির্বাচনের বৈধতা ও গণভোটের ফলাফল উভয়ই দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। সকল দলই ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।



