নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার একটি তথ্যবিবরণী প্রকাশ করে জানায়, সামাজিক মিডিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) এর নাম ব্যবহার করে একটি ‘অফিস আদেশ’ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই নথি নির্বাচন ফলাফল ও পরবর্তী স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত একটি কাল্পনিক ‘বিশেষ প্রটোকল’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ইসি উল্লেখ করে, এ ধরনের ভুয়া তথ্যের প্রচার নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টগুলোতে এনএসআইয়ের লোগো ও স্বাক্ষরসহ নথির স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে নির্বাচনের ফলাফল এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে। এই নথি কোনো সরকারি অনুমোদন পায়নি এবং এর বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ কল্পিত বলে ইসি নিশ্চিত করেছে।
ইসির তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, এই ‘অফিস আদেশ’ সম্পূর্ণভাবে কল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা বা পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি প্রশাসনিক অংশগ্রহণ নেই। তাই এনএসআইয়ের নাম ব্যবহার করে গৃহীত কোনো পদক্ষেপই আইনগত ভিত্তি রাখে না।
ইসি স্পষ্ট করে জানায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কোনো সরাসরি প্রশাসনিক ভূমিকা নেই। এনএসআই শুধুমাত্র আইনগতভাবে নির্ধারিত সীমার মধ্যে কাজ করে এবং তার কার্যক্রম নির্বাচন পরিচালনার সাথে যুক্ত নয়। এই বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি, যাতে ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ না থাকে।
ইসি সকল নাগরিককে আহ্বান জানায়, যদি কোনো গুজব, অপপ্রচার বা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পায় তবে তা তৎক্ষণাৎ ‘আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’-এ জানাতে। এই সেলটি নির্বাচন কমিশনের অধীনে গঠিত এবং গুজবের দ্রুত মোকাবিলার জন্য কাজ করে।
আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেলটি ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। সেলটির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেলটির যোগাযোগ নম্বরগুলো হল ০২৫৫০০৭৪৭০, ০২৫৫০০৭৪৭১, ০২৫৫০০৭৪৭২, ০২৫৫০০৭৪৭৪ এবং ০২৫৫০০৭৫০৬।
এই ফোনলাইনগুলোতে গুজবের উৎস, নথির স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করা যেতে পারে। ইসি জোর দিয়ে বলেছে, গুজবের দ্রুত সনাক্তকরণ ও দমনই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
ভুয়া অফিস আদেশের মতো গুজব যদি সময়মতো থামানো না হয়, তবে তা ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময়ে এমন তথ্যের বিস্তার নির্বাচন ফলাফলের প্রতি আস্থা ক্ষয় করতে পারে।
ইসি এই বিষয়টি উল্লেখ করে, নির্বাচন কমিশন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে। গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং সঠিক তথ্য প্রদানই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার ভিত্তি।
নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো গুজব বা অপপ্রচার পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে জানাতে হবে, এটাই ইসির শেষ নির্দেশনা। সেলটি ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবং এই সময়ে গৃহীত সকল তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষিত থাকবে।
ইসির এই সতর্কবার্তা সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে নাগরিকরা ভুয়া নথি শেয়ার না করে সঠিক তথ্যের দিকে মনোযোগ দেয়। সরকার ও নির্বাচনী সংস্থাগুলোও এই ধরনের গুজবের বিস্তার রোধে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে।
শেষে ইসি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে, এনএসআই বা অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থার নাম ব্যবহার করে তৈরি করা কোনো নথি নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ নয় এবং তা অবিলম্বে অবৈধ। গুজবের বিরুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণই দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখবে।



