বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির মূল বিষয় হল বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো এবং তৈরি পোশাক রপ্তানির শুল্ক সম্পূর্ণ বাতিল করা।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। একই সময়ে বাংলাদেশ সরকার থেকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ভার্চুয়ালভাবে অংশগ্রহণ করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর প্রযোজ্য উচ্চ শুল্ক হার হ্রাস পেয়ে নতুন হার ১৯ শতাংশে নির্ধারিত হয়েছে। বিশেষভাবে, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা স্বাক্ষরের পূর্বে শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা শুল্ক হার আরও কমাতে চেষ্টা করছি এবং আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এই মন্তব্য চুক্তির মূল শর্তগুলোর পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুল্ক হ্রাসের কার্যকরী তারিখ থেকে তিন মাসের জন্য শুল্কের প্রয়োগ স্থগিত করা হয়েছে। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরে, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হার ৩৭ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুল্ক হ্রাসের ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম দামের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে। বিশেষত তৈরি পোশাক শিল্প, যা রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস, শুল্কমুক্ত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
মার্কিন বাজারে শুল্ক শূন্যের সুবিধা পেলে রপ্তানি পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা শিল্পের উৎপাদন বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্য বাংলাদেশি পণ্যের দাম কমে যাওয়া সম্ভব, যা চাহিদা বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার এই চুক্তিকে দেশের বাণিজ্য নীতি শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি ভিত্তিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো লক্ষ্য।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে সরাসরি আমদানি করার মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যকরণ এবং মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ পাবে। এই দিক থেকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করেছে। শুল্ক হ্রাসের পরবর্তী ধাপগুলোতে রপ্তানি পরিসংখ্যানের পরিবর্তন এবং বাজার প্রবেশের হার নিয়মিতভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক হ্রাস এবং তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক মিথস্ক্রিয়াকে নতুন মাত্রা দেবে। ভবিষ্যতে এই চুক্তি কীভাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



