অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সেলাহুদ্দিন আহমেদ গতকাল ঢাকার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (PRI) আয়োজন করা এক সভায় উল্লেখ করেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে চলমান সংস্কার কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে, না হলে জনমত থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে চেষ্টা করেছে, তবে অনেক কাজ স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়; সেগুলোকে যথাযথ সময়ের প্রয়োজন।
আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, সংস্কার ত্যাগ করলে জনগণ আবার রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকারকে কঠিন অবস্থায় ফেলবে। তিনি সতর্ক করেন, পূর্বের মতো প্রতারণা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হবে না, কারণ জনগণ ইতিমধ্যে সতর্ক হয়ে আছে। এই মন্তব্যগুলোকে তিনি দেশের স্বার্থে করা সংস্কারকে অব্যাহত রাখার আহ্বান হিসেবে উপস্থাপন করেন।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, “যা আমরা শুরু করেছি তা একবারের কাজ নয়; এগুলো ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে।” তিনি বলেন, সরকার আরও কাজ করতে পারে, তবে তা করার জন্য স্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা আবশ্যক। এভাবে তিনি সংস্কারকে একাধিক ধাপের প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করেন, একক উদ্যোগের পরিবর্তে।
আহমেদ রাজনৈতিক নেতাদেরকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) অথবা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত সংস্কারগুলোকে শুধুমাত্র নামের ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান না করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “তাদের সব সুপারিশই খারাপ নয়; কিছু সুপারিশের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।” এভাবে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থার কিছু নীতি-নির্দেশকে গঠনমূলক দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারকে দেশের বাস্তব চাহিদা এবং অপরিহার্যতা ভিত্তিক গঠন করেছে, ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়, আহমেদ ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বর্তমান হিসাব ঘাটতি এবং জ্বালানি সংকটের মোকাবিলার জন্য এই সংস্কারগুলো অপরিহার্য ছিল। এছাড়া, আদানি ও রামপাল প্রকল্পের মতো স্বাধীন চুক্তিগুলোতে অস্বাভাবিকতা দেখা গিয়ে উচ্চ আদালতকে পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছিল, তবে জটিলতা ও সময়ের অভাবে সংশোধন করা সম্ভব হয়নি।
শেষে আহমেদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি পুনরাবৃত্তি প্যাটার্নের কথা তুলে ধরেন, যেখানে এক সরকার যে পদক্ষেপ নেয়, পরবর্তী সরকার তা খারাপ বলে চিহ্নিত করে নতুন কিছু শুরু করে। তিনি এই ধারাবাহিকতা ভাঙা এবং সংস্কারকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন, যাতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।



