বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যদি সরকার গঠন করেন, তবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সময়ে পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন, এই প্রতিশ্রুতি তিনি সোমবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারে জানিয়ে দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি সব সেক্টর ও সকল পেশার কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করবে, যাতে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়। পরিকল্পনায় প্রতিটি স্তরে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিএনপির আরেকটি মূল প্রতিশ্রুতি হল পরিবার কার্ডের ব্যাপক বিতরণ। প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারকে মাসিক দুই হাজার পাঁচশো টাকা অথবা সমমানের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হবে।
কৃষক কার্ডের সুবিধা সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানান। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলে দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শিক্ষিত তরুণী-তরুণীদের জন্য বিশেষ আর্থিক ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত অথবা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এই ভাতা প্রদান করা হবে, যাতে নারী কর্মশক্তি বাজারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।
বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে ব্যাংক, বীমা, পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে। অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন ও শিল্প-ব্যবসায়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা নাগরিকের ঘরে পৌঁছানোর জন্য এক লক্ষ ‘হেলথ কেয়ার’ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অশি শতাংশই নারী কর্মী হবে, যা স্বাস্থ্যসেবার লিঙ্গ সমতা বাড়াবে।
তারেক রহমান বর্তমান শাসনকে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে সমালোচনা করে, বছরে প্রায় ষোলো বিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার অভিযোগ করেন। এই রকম আর্থিক লিক বন্ধ হলে পরিবার ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পে তহবিল সরবরাহ সহজ হবে বলে তিনি বলেন।
এইসব প্রতিশ্রুতি দেশের সামাজিক সুরক্ষা জালকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ বাজেট ও আইনগত কাঠামো প্রয়োজন হবে।
বিএনপি এই নীতিগুলোকে নির্বাচনী মঞ্চে প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা ভোটারদের কাছে আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে চায়।
এখন পর্যন্ত সরকারী পক্ষ থেকে এই ঘোষণার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে রাজনৈতিক আলোচনায় এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ নেয়, তবে দেশের বাজেট কাঠামো ও কর্মসংস্থান নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, তবে তা অর্জনের জন্য সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আর্থিক সক্ষমতা অপরিহার্য।
বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং কর্মীর কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের সাথে যুক্ত হবে। এতে কর্মস্থলের মনোবল বাড়বে এবং সরকারি সেবার গুণগত মান উন্নত হবে বলে দলটি দাবি করে।
প্রতিপক্ষ দল আওয়ামী লীগ, যদিও এখনো সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবে পূর্বে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও কল্যাণ বিষয়ক নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো পার্টি-নির্ভর আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।



