ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আজ আইসিটি ভবনে সাংবাদিকদের সামনে জানান, বর্তমান সরকার পরিবর্তিত হোক বা না হোক, অপরাধবিরোধী ট্রায়াল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ২১টি অপরাধবিরোধী মামলা বিচারাধীন এবং অতিরিক্ত ৩৪টি মামলার তদন্ত চলছে।
এই মামলাগুলো মূলত জুলাই বিদ্রোহ, জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া এবং গৃহহত্যা সংক্রান্ত, যা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে প্রভাবিত হবে না বলে তিনি জোর দেন। তাজুলের মতে, “ট্রায়ালের ওপর কোনো প্রভাবের সম্ভাবনা নেই, ন্যায়বিচার নিজস্ব গতিতে চলবে”।
প্রসিকিউশন অনুযায়ী, মোট ৪৫৭ জন অভিযুক্তের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬১ জন গ্রেফতার হয়েছে, ২৯৩ জন এখনও পলায়নরত, একজন জামিনে মুক্ত, একজন মারা গেছেন এবং একজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৭৪ জন সাধারণ নাগরিক, যার মধ্যে পূর্বে আওয়ামী লীগ থেকে মন্ত্রিপদ ও সংসদ সদস্য ছিলেন, ২০ জন সেনা কর্মকর্তা, ৬৫ জন পুলিশ কর্মী এবং একজন আনসার সদস্য অন্তর্ভুক্ত।
আইসিটি-১ ও আইসিটি-২ এখন পর্যন্ত তিনটি মামলায় রায় প্রদান করেছে, যার ফলে ২৬ জন দোষী সাব্যস্ত এবং একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দুইটি মামলার রায় এখনও শূন্য, একটি হল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সায়েদের হত্যাকাণ্ড এবং অন্যটি রামপুরায় দুইজনের মৃত্যু ও দুইজনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা।
বিবিধ ৩৪টি মামলায় তদন্ত চলমান, যার মধ্যে মোট ৯৬ জন অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে, আর ১২৫ জন এখনও পলায়নরত। তাজুল উল্লেখ করেন, “অনুসন্ধান কাজ অব্যাহত থাকবে এবং কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন তা বাধা দিতে পারবে না”।
আইসিটি-র এই অবস্থান দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তাজুলের বক্তব্য অনুসারে, বিচার প্রক্রিয়া স্বতন্ত্র এবং সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত নয়, ফলে ভবিষ্যতে যে কোনো সরকারই আইসিটি-র কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের সুযোগ পাবে না।
এ পর্যন্ত আইসিটি-র কাজের মধ্যে ২১টি অপরাধবিরোধী মামলার বিচার, ৩৪টি মামলার তদন্ত এবং ৪৫৭ জন অভিযুক্তের তালিকা অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। তাজুলের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আইসিটি-র লক্ষ্য হল ন্যায়বিচারকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে চালিয়ে যাওয়া।
প্রধান প্রসিকিউটর তাজুলের এই আশাবাদী মন্তব্যের পরও, আইসিটি-র কাজের গতি ও ফলাফল সম্পর্কে জনসাধারণের প্রত্যাশা উচ্চ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ন্যায়বিচার কখনো থেমে যাবে না, তা সরকার হোক বা না হোক”।
আইসিটি-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলমান তদন্তের পাশাপাশি নতুন মামলাও শীঘ্রই দায়ের হবে, যাতে দেশের অপরাধবিরোধী ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণতা পায়। তাজুলের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন বিচার প্রক্রিয়ার গতি কমাবে না, বরং ন্যায়বিচারের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখবে।
সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব অপরাধবিরোধী মামলায় ন্যায়বিচার অব্যাহত থাকবে, এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন তা প্রভাবিত করতে পারবে না। এই অবস্থান দেশের আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত।



