একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইনযুক্ত কফি অথবা চা নিয়মিতভাবে গ্রহণ করলে ডিমেনশিয়া বিকাশের সম্ভাবনা কমে। গবেষণার ফলাফল ৯ ফেব্রুয়ারি জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, দিনে দুই থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি অথবা এক থেকে দুই কাপ চা পান করা সবচেয়ে কম ঝুঁকি সৃষ্টি করে, আর কোনো পানীয় না নেওয়ার তুলনায় এই গ্রুপে রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এই বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রের নার্সেস হেলথ স্টাডি এবং হেলথ প্রফেশনালস ফলো-আপ স্টাডি থেকে ১৯৮০ দশক থেকে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে সংগ্রহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। মোট ১৩ লক্ষেরও বেশি অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ক্যান্সার, পার্কিনসন রোগ বা ডিমেনশিয়া পূর্বে সনাক্ত হয়নি। অংশগ্রহণকারীরা প্রতি কয়েক বছর পর ডায়েট সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী পূরণ করতেন, এবং ডিমেনশিয়া কেসগুলো মৃত্যুর রেকর্ড অথবা স্ব-প্রতিবেদনিত চিকিৎসা নির্ণয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
ক্যাফেইনযুক্ত কফির মাঝারি পরিমাণের গ্রহণের ক্ষেত্রে, নারীদের গড়ে প্রায় ২.৫ কাপ এবং সর্বোচ্চ গ্রহণের সীমা প্রায় ৪.৫ কাপ ছিল; পুরুষদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ কফি পানকারী গোষ্ঠী সাধারণত কম বয়সী এবং ধূমপানের প্রবণতা বেশি। যদিও উচ্চ মাত্রার কফি গ্রহণের সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকি যুক্ত হতে পারে, তবে ডিমেনশিয়া ঝুঁকির দিক থেকে তাদের সুবিধা স্পষ্ট।
কফি না পান করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতি ১০০,০০০ জনে বছরে ৩৩০টি ডিমেনশিয়া কেস রেকর্ড করা হয়েছে। মাঝারি পরিমাণে কফি পানকারী গোষ্ঠীতে এই হার ২৯০টির নিচে নেমে আসে, এবং সর্বোচ্চ গ্রহণকারী গোষ্ঠীতেও হ্রাস দেখা যায়। বয়স, ধূমপান ইত্যাদি অন্যান্য কারণ বিবেচনা করে সমন্বয় করা হলে, মাঝারি এবং উচ্চ গ্রহণ উভয়ই ডিমেনশিয়া ঝুঁকি প্রায় ১৯% এবং ১৮% কমিয়ে দেয়।
চা পানকারীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ফলাফল পাওয়া গেছে; এক থেকে দুই কাপ চা দৈনিক গ্রহণকারী গোষ্ঠীতে ডিমেনশিয়া ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে। তবে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের চা-তে ক্যাফেইনের উপস্থিতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি, ফলে ক্যাফেইনই মূল কারণ কিনা তা স্পষ্ট নয়।
ডিক্যাফেইনেটেড কফি এবং ডিমেনশিয়া ঝুঁকির মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, ক্যাফেইন অপসারণের পর কফির সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক প্রভাব কমে যায় বলে ধারণা করা যায়।
গবেষকরা কেন ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি, তবে পূর্বের গবেষণায় প্রদাহজনিত প্রক্রিয়া ডিমেনশিয়া বিকাশে ভূমিকা রাখে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ক্যাফেইন সম্ভবত মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে বা স্নায়ু কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে, তবে এই অনুমান নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গবেষণা প্রয়োজন।
এই ফলাফলগুলো দৈনন্দিন জীবনে ক্যাফেইনযুক্ত কফি বা চা যুক্ত করার সম্ভাব্য সুবিধা নির্দেশ করে, তবে অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে হৃদরোগ বা ঘুমের ব্যাঘাতের মতো অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি। আপনার ডায়েটের অংশ হিসেবে কতটা ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় গ্রহণ করা উচিত, তা আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করবে। আপনি কি ইতিমধ্যে আপনার পানীয়ের তালিকায় ক্যাফেইন যুক্ত পছন্দ যোগ করেছেন?



