20 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাইপিএ চুক্তি অনুযায়ী জাপানের বিনিয়োগের প্রত্যাশা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশের বিশদ

ইপিএ চুক্তি অনুযায়ী জাপানের বিনিয়োগের প্রত্যাশা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশের বিশদ

বাংলাদেশ সরকার ও জাপান গত শুক্রবার স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) অনুযায়ী, জাপান বাংলাদেশকে ১২০টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা প্রদান করেছে। পরিবর্তে বাংলাদেশ জাপানকে ৯৮টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শ্রী শেখ বশিরউদ্দীন সোমবার বিকালে বাণিজ্য সচিবালয়ের সভাকক্ষে চুক্তির মূল বিষয়গুলো তুলে ধরে জানিয়েছেন, জাপানের বিনিয়োগের ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স ও কেয়ারগিভারসহ দক্ষ মানবসম্পদে জাপান আগ্রহী।

চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ ৯৮টি সেবাখাতে জাপানের বিনিয়োগের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। পূর্বে শুধুমাত্র পাঁচ তারকা হোটেল ও মোবাইল ফোনের দুটি সেবা ক্ষেত্রই শুল্কমুক্ত ছিল; এখন বিস্তৃত সেবাখাতে প্রবেশের দরজা খুলে গেছে। এ সুযোগে জাপান থেকে বড় পরিমাণে মূলধন আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সরকার আত্মবিশ্বাসী।

শুল্কমুক্ত প্রবেশের ফলে রাজস্বের ক্ষতি সম্পর্কে প্রশ্নে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ১,০৭০টি পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, যার ফলে প্রত্যাশিত রাজস্ব হ্রাস বার্ষিক ২০ কোটি টাকার নিচে থাকবে। বর্তমানে খাদ্য পণ্য, তুলা ও সুতা ইত্যাদি পণ্যে শূন্য শুল্ক আর মেশিনারিজে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক আরোপিত। এই দুইটি বিভাগ মিলিয়ে মোট ১,০৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা রয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানও যোগ করেন, শূন্য শুল্কের পণ্যগুলো ইতিমধ্যে বিস্তৃত, ফলে তাত্ক্ষণিক রাজস্বের ক্ষতি সীমিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইপিএ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ জাপানসহ উন্নত দেশের সঙ্গে ৭,৩৭৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশের অধিকার পাবে। ভবিষ্যতে ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে আরও পণ্যে এই সুবিধা সম্প্রসারিত হবে।

প্রস্তুত পোশাক শিল্পের জন্যও চুক্তিতে বিশেষ ধারা রয়েছে। বর্তমানে পোশাক পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে; ইপিএয়ের পরও বাংলাদেশ অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়াতে পারবে, যা পূর্বে অর্জিত সুবিধার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, জাপানের সঙ্গে এই প্রথম ইপিএ চুক্তি বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। উভয় দেশের মধ্যে সেবা, পণ্য ও প্রযুক্তি বিনিময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, ইপিএ চুক্তি বাংলাদেশের সেবা খাতের প্রবেশযোগ্যতা বাড়িয়ে জাপানের সরাসরি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে, একই সঙ্গে শুল্কমুক্ত পণ্যের মাধ্যমে রাজস্বের ক্ষতি সীমিত রাখবে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে আরও পণ্য ও সেবাখাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments