20 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামিলান-কোর্টিনা শীত অলিম্পিকে ড্রোনে ক্রীড়াবিদদের পেছনে ক্যামেরা

মিলান-কোর্টিনা শীত অলিম্পিকে ড্রোনে ক্রীড়াবিদদের পেছনে ক্যামেরা

মিলান-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের ডাউনহিল স্কি ও লু্গ প্রতিযোগিতায় নতুন ক্যামেরা কোণ দেখা গেছে, যেখানে ড্রোনগুলো ক্রীড়াবিদদের ঠিক পেছনে উড়ে তাদের গতি রেকর্ড করেছে। এই প্রযুক্তি ২০১৪ থেকে অলিম্পিক সম্প্রচারে ব্যবহার করা হয়, তবে এই শীতের গেমসে এর ব্যবহার বিশেষভাবে বাড়ে।

ড্রোনগুলোতে উচ্চ রেজোলিউশনের ক্যামেরা বসিয়ে, স্কি ও লু্গের তীব্র গতি অনুসরণ করা হয়, ফলে এমন দৃশ্য পাওয়া যায় যা আগে কখনো টেলিভিশনে দেখা যায়নি। শীতের তুষারময় ঢাল এবং দ্রুতগতির গতি একসাথে ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যা দর্শকদের জন্য নতুন ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

এই নতুন দৃশ্যের প্রতি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কিছু দর্শক ড্রোনের তীক্ষ্ণ শটকে প্রশংসা করে, অন্যদিকে কিছু মানুষ ড্রোনের ব্লেডের ঘূর্ণনশব্দকে বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করে। লাইভ সম্প্রচারে ড্রোনের গুঞ্জন শোনা যায়, যা কিছু সময়ে ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ভুভুজেলা শবের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

শব্দের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, বিশেষত ক্রীড়াবিদদের মানসিক অবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে। দুইবারের অলিম্পিক স্বর্ণপদকধারী লিজি ইয়ারনল্ড, ব্রিটেনের স্কেলেটন খেলোয়াড়, ড্রোনের শব্দ সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “আমি সরাসরি শোনি না, তবে যদি আমি ড্রোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতাম, তবে তা আমাকে খুবই সচেতন করত।” তিনি আরও বলেন, “ছোট ছোট বিষয় বা পরিবর্তন ক্রীড়াবিদদের মানসিক গেমে প্রভাব ফেলতে পারে।”

ড্রোনের শব্দ নিয়ে উদ্বেগের পরেও গেমসের আয়োজকরা কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পায়নি। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ক্রীড়া পরিচালক পিয়ের ডুক্রে বলেন, “প্রসারণের আগে আমরা উচ্চ পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে বহুবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি, যাতে ব্যাঘাতের মাত্রা ন্যূনতম থাকে।” তিনি যোগ করেন, “গত সপ্তাহান্তে দেখা গিয়েছিল, এবং আমরা নিশ্চিত করেছি যে এটি পারফরম্যান্সে বাধা সৃষ্টি করবে না।”

ড্রোনের ব্যবহারকে তিনি “একটি বিবর্তন” বলে উল্লেখ করেন, এবং বলছেন যে এর সংযোজন এখনো পরিচালনাযোগ্য। গেমসের ক্রীড়া পরিচালক আন্না রিককার্ডি এই দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে, এবং জানান যে প্রযুক্তি ও ক্রীড়ার সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে।

ড্রোনের উপস্থিতি কেবল ক্যামেরা কোণই পরিবর্তন করেনি, বরং ক্রীড়া সম্প্রচারের পদ্ধতিতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তীব্র গতি, তুষার এবং উচ্চতা একসাথে ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যা দর্শকদের জন্য একধরনের ভিজ্যুয়াল থ্রিল তৈরি করে।

ক্রীড়াবিদদের দৃষ্টিকোণ থেকে, ড্রোনের শব্দ কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন নেই যে এটি পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কোচ ও প্রশিক্ষকরা ড্রোনের উপস্থিতিকে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন, যাতে ক্রীড়াবিদরা শোরগোলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মতবিনিময় তীব্র হয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী ড্রোনের শটকে “অসাধারণ” বলে প্রশংসা করেন, অন্যদিকে কিছু ব্যবহারকারী শব্দকে “শীতের ভুবুজেলা” বলে সমালোচনা করেন। তবে অধিকাংশ মন্তব্যে ড্রোনের প্রযুক্তিগত দিকের প্রশংসা স্পষ্ট।

অলিম্পিক কমিটি ড্রোনের ব্যবহারকে ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, তবে তা ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও পারফরম্যান্সের ওপর কোনো প্রভাব না ফেলে নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাবে।

সারসংক্ষেপে, মিলান-কোর্টিনা শীত অলিম্পিকে ড্রোনের মাধ্যমে নতুন ক্যামেরা কোণ যুক্ত হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য তীব্র ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে, তবে শব্দের কারণে কিছু ক্রীড়াবিদ ও দর্শকের মধ্যে বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। আয়োজকরা এই প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করে ক্রীড়া সম্প্রচারের মানোন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments