সম্পাদক পরিষদ ৭ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী একটি নিবন্ধিত ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের অফিসে প্রবেশের পর, সাংবাদিক ও মিডিয়া সংস্থার ওপর বাড়তে থাকা হুমকি ও হয়রানির ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ঘটনা দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রেসের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোচনা উস্কে দিয়েছে।
সম্পাদক পরিষদ উল্লেখ করেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের ওপর বিভিন্ন রকমের চাপ ও হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহের ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন করে। সংস্থা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রেসের স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তা দ্রুত থামাতে পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
সেনাবাহিনী ৭ ফেব্রুয়ারি একটি নিবন্ধিত ডিজিটাল মিডিয়া আউটলেটের অফিসে প্রবেশের ঘটনা পরিষদের মতে “চিন্তাজনক উদাহরণ” হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অফিসে প্রবেশের সময় কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা আইনি আদেশ প্রদান করা হয়নি, যা সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সম্পাদক পরিষদ জোর দিয়ে বলেছে যে, যদি কোনো সংবাদ প্রকাশে অনিয়মের সন্দেহ থাকে, তবে তা সমাধানের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। স্বেচ্ছাচারী হস্তক্ষেপের পরিবর্তে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, সরকার, সেনাবাহিনীর প্রধান ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রধান গত অর্ধবছর ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার খারাপ চিত্র পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তবে, এই ধরনের হস্তক্ষেপের ঘটনা তাদের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে এবং জনমতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে পরিষদ সতর্ক করেছে।
সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা ভোটার ও মিডিয়া পেশাজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, তারা স্বাধীনভাবে রিপোর্ট করতে পারবে না, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ন করবে।
সম্পাদক পরিষদ এছাড়াও অবহেলাপূর্ণ রিপোর্টিং ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তারকে নির্বাচন কভারেজের অখণ্ডতার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অযথা গুজব ও ভুল তথ্যের প্রচার ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে পরিষদ সরকার, নিরাপত্তা সংস্থা ও সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তৎপরতা দেখাতে এবং দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি এবং তা বজায় রাখতে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনা করে, প্রেসের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশেষভাবে জরুরি। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় মিডিয়া যে ভূমিকা পালন করে, তা তথ্যের সঠিকতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য, এবং এই দায়িত্বের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা উচিত।
সম্পাদক পরিষদ উল্লেখ করেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হুমকি ও বাধা বাড়ার প্রবণতা একটি বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যা শুধুমাত্র একক ঘটনার মাধ্যমে নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পায়। তাই, এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কাঠামোগত ও নীতি-ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
শেষে, পরিষদ পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, প্রেসের স্বাধীনতা, নিরাপদ কাজের পরিবেশ এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে, দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে। সকল স্টেকহোল্ডারকে একসাথে কাজ করে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করতে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



