20 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeব্যবসানন‑ট্র্যাডিশনাল বাজারে গার্মেন্ট রপ্তানি ৪.৯৯% হ্রাস, মোট রপ্তানি ২.৪৩% কমে

নন‑ট্র্যাডিশনাল বাজারে গার্মেন্ট রপ্তানি ৪.৯৯% হ্রাস, মোট রপ্তানি ২.৪৩% কমে

২০২৫‑২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশি রেডি‑মেড গার্মেন্টস (RMG) রপ্তানি নন‑ট্র্যাডিশনাল বাজারে গত বছরের তুলনায় ৪.৯৯ শতাংশ কমে $৩.৭৭ বিলিয়ন হয়েছে। পণ্যগুলোর চাহিদা হ্রাসই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অংশ মোট গার্মেন্ট রপ্তানির ১৬.৪০ শতাংশ গঠন করে।

দেশের রপ্তানি নীতি অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা ছাড়া সব দেশকে নন‑ট্র্যাডিশনাল বা উদীয়মান বাজার হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই এই শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে রপ্তানির গঠন ও প্রবণতা স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গার্মেন্ট রপ্তানি গন্তব্য, মোট রপ্তানির ৪৯.৩৫ শতাংশ দখল করে। এই সময়ে ইউরোপ থেকে আয় $১১.৩৪ বিলিয়ন, যা পূর্ববছরের তুলনায় ৩.৯৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপীয় বাজারের এই হ্রাস সামগ্রিক রপ্তানি প্রবণতায় প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, মোট রপ্তানির ১৯.৪৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। জুলাই‑জানুয়ারি সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি $৪.৪৭ বিলিয়ন, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ০.০৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যদিও হ্রাস কম, তবে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

কানাডা ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাডা থেকে আয় $৭৮৪.১৭ মিলিয়ন, যা মোটের ৩.৪১ শতাংশ এবং পূর্ববছরের তুলনায় ৪.৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি পোর্টফোলিওকে কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ করতে সহায়তা করছে।

যুক্তরাজ্য থেকে রপ্তানি $২.৬২ বিলিয়ন, মোটের ১১.৩৮ শতাংশ গঠন করে এবং ২.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে। ইউরোপের এই দুই বাজারে ইতিবাচক গতি রপ্তানির বৈচিত্র্যকরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।

সামগ্রিকভাবে, জুলাই‑জানুয়ারি সময়ে রেডি‑মেড গার্মেন্টস সেক্টরের মোট রপ্তানি $২২.৯৮ বিলিয়ন, যা পূর্ববছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৪৩ শতাংশ কমেছে। মোট হ্রাসের মূল কারণ মূল বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নন‑ট্র্যাডিশনাল বাজারে রপ্তানি হ্রাস বাংলাদেশের রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের কৌশলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকির সময় রপ্তানি প্রবাহে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি নতুন বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। এই প্রবণতা বজায় রাখতে পণ্যের মান, ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিংকে স্থানীয় ভোক্তাদের পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা এবং লক্ষ্যভিত্তিক মার্কেটিং কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।

রপ্তানি প্রচার ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নন‑ট্র্যাডিশনাল বাজারে চাহিদা হ্রাসের পেছনে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ফ্যাশন প্রবণতার পরিবর্তন প্রধান কারণ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্য সংযোজন, টেকসই উৎপাদন এবং পণ্যের পার্থক্যকরণে মনোযোগ দিতে হবে।

ভবিষ্যতে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এশিয়া‑প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি ও উদ্যোগের প্রয়োজন। সরকারী নীতি, বাণিজ্য সুবিধা ও রপ্তানি সহায়তা প্রোগ্রাম এই দিককে ত্বরান্বিত করতে পারে।

সংক্ষেপে, জুলাই‑জানুয়ারি সময়ে নন‑ট্র্যাডিশনাল বাজারে রপ্তানি হ্রাসের পরেও ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমিকা অব্যাহত। নতুন বাজারে সম্প্রসারণ, পণ্যের পার্থক্যকরণ এবং টেকসই উৎপাদনই আগামী ত্রৈমাসিকে রপ্তানি পুনরুদ্ধারের মূল চালিকাশক্তি হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments