রবিবার সন্ধ্যায় প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সে অনুষ্ঠিত লিগ ম্যাচে অলিম্পিক মার্সেই ৫-০ হারে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের কাছে। এই ফলাফল দলটির মৌসুমের ৩৩তম ম্যাচে রেকর্ড করা হয় এবং ফলাফলটি স্থানীয় মিডিয়ার শিরোনামেও প্রতিফলিত হয়েছে।
মার্সেইয়ের পিএসজি বিপরীতে প্রথম জয় ছিল সেপ্টেম্বরের লিগ ম্যাচে, যেখানে তারা ভেলোড্রোমে ১-০ করে বিজয় অর্জন করেছিল। এই জয়টি ১৪ বছর পর প্রথমবারের মতো ভেলোড্রোমে পিএসজি পরাজিত হওয়া হিসেবে স্থান পেয়েছিল এবং স্থানীয় পত্রিকা লা প্রোভাঁসের শিরোনামে “অবশেষে” শব্দটি উঁকি দিয়েছিল।
সেই জয়ের পর আশার আলো জ্বলে উঠলেও, রবিবারের পরাজয়টি সেই আশা দ্রুত নিভিয়ে দেয়। লা প্রোভাঁসের পরের দিন শিরোনাম “অবহেলা” দিয়ে পুরো ম্যাচের ধ্বংসাত্মক দিককে প্রকাশ করেছে।
মার্সেইয়ের রক্ষণাত্মক রোস্টার দ্রুত ভেঙে পড়ে, শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোলের ব্যবধানে হারের মুখোমুখি হয়। পিএসজি দলের দ্রুত আক্রমণ এবং মার্সেইয়ের প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার অক্ষমতা ফলাফলকে নির্ধারিত করে।
মার্সেইয়ের ডিফেন্ডার ফাকুয়ান্ডো মেদিনার জানুয়ারিতে ট্রফি দে শ্যাম্পিয়ন্সে পিএসজি-র বিরুদ্ধে পেনাল্টি পরাজয়ের পর “প্রতিশোধ” নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে সেই প্রতিশোধের স্বাদ এইবারের বিশাল পরাজয়ে হারিয়ে যায়।
ডি জারবি, মার্সেইয়ের কোচ, জানুয়ারি টুর্নামেন্টে পিএসজি-র বিরুদ্ধে হারের পর ড্রেসিং রুমে অশ্রু ঝরিয়েছিলেন। তিনি একই রকম দুঃখের অনুভূতি আবার রবিবারের ম্যাচে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি “গভীর দুঃখ” অনুভব করেছেন।
ডি জারবি বলেন, “আমি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছি না” এবং এই পরাজয়ের পেছনে কোনো স্পষ্ট কারণ খুঁজে পাননি। তবে পরিসংখ্যানিক দৃষ্টিতে দলের অস্থিরতা স্পষ্ট।
এই ম্যাচটি ছিল মার্সেইয়ের মৌসুমের ৩৩তম, এবং একই সঙ্গে ৩৩টি ভিন্ন শুরুর লাইনআপের পরিসংখ্যানও রেকর্ড করা হয়। কোচের মতে, এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো একটি দলকে এতবার পরিবর্তন করতে দেখা গেছে।
ডি জারবি দলের স্থায়িত্বের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, “এতবার পরিবর্তন করা দলের সঙ্গতি বজায় রাখা কঠিন”। তিনি স্বীকার করেন যে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের গতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
শরৎ ট্রান্সফার উইন্ডোতে মার্সেই থেকে নয়জন খেলোয়াড় চলে গেছেন, যার মধ্যে জানুয়ারিতে যোগদান করা এঞ্জেল গোমেস এবং ম্যাট ও’রাইলি অন্তর্ভুক্ত। একই সময়ে চারজন নতুন খেলোয়াড় দলকে যোগ দিয়েছেন, যা দলীয় গঠনকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্সেইয়ের পরবর্তী লিগ ম্যাচটি আগামী সপ্তাহে প্যারিসের আরেকটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলটি পুনর্গঠন এবং আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে। কোচ ডি জারবি উল্লেখ করেছেন, “আমাদের কাজ হল দ্রুত সমন্বয় করে পরবর্তী ম্যাচে ফলাফল পরিবর্তন করা”।
সারসংক্ষেপে, মার্সেইয়ের পিএসজি-র বিপরীতে বড় পরাজয় দলীয় অস্থিরতা, ধারাবাহিকতা অভাব এবং ট্রান্সফার নীতির প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এখন সময় এসেছে দলকে স্থিতিশীল করে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার।



