বাংলাদেশ ব্যাংক আজ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ $২৯ বিলিয়ন সীমা অতিক্রম করেছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পদ্ধতি অনুসারে প্রথমবারের ঘটনা। রিজার্ভের মোট মূল্য $২৯.৪৭ বিলিয়ন, যা ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে রেকর্ড করা $২৯.২৩ বিলিয়নের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই স্তরটি ১২ জুলাই ২০২৩ থেকে সর্বোচ্চ, যখন বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ছয় নম্বর সংস্করণ (BPM6) অনুযায়ী রিজার্ভ গণনা শুরু করে। BPM6 একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড, যা রপ্তানি বিল এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক দায় পরিশোধে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভকে অন্তর্ভুক্ত করে।
রিজার্ভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি মূলত বিদেশি মুদ্রা রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়া এবং আমদানি চাহিদা হ্রাসের ফলে ঘটেছে। রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশীয় মুদ্রা বাজারে অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ করে, আর কমে যাওয়া আমদানি চাপ রিজার্ভের ব্যবহার কমিয়ে দেয়।
এই ইতিবাচক প্রবণতা আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ত্বরান্বিত হয়, যখন রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। সরকার পরিবর্তনের পর রেমিট্যান্সের প্রবাহে স্থিতিশীলতা দেখা যায়, যা রিজার্ভের পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মোট রিজার্ভ $৩৪.০৬ বিলিয়নে পৌঁছেছে, যা নভেম্বর ২০২২ থেকে সর্বোচ্চ স্তর। এই বৃদ্ধি আংশিকভাবে ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে অর্জিত, যা টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।
বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করে টাকার মান সমর্থন করলেও, বর্তমান আর্থিক বছরে ব্যাংক ডলার ক্রয় করে টাকার অবমূল্যায়ন রোধের চেষ্টা করেছে। এই নীতি রিজার্ভ গঠনে সরাসরি অবদান রেখেছে।
বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বচ্ছ নিলাম পদ্ধতিতে ব্যাংক এই আর্থিক বছরে মোট $৪.৩ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। এই ক্রয় রিজার্ভের পরিমাণ বাড়িয়ে দেশের মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে।
জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রকাশিত মুদ্রা নীতি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার নমনীয়তা বজায় রাখবে এবং রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ ও রিজার্ভের উন্নত অবস্থাকে বহিরাগত শক থেকে রক্ষা করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশ প্রথমবার $৪৮ বিলিয়ন রিজার্ভ অতিক্রম করেছিল আগস্ট ২০২১-এ, তবে কোভিড-১৯ সীমাবদ্ধতা হ্রাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলে পণ্য মূল্যের উত্থান পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ হ্রাস পায়।
মে ২০২৪ পর্যন্ত ডলার হোল্ডিং $২৪ বিলিয়নে নেমে আসে, যা পূর্বের শীর্ষের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস নির্দেশ করে। এই পতন রিজার্ভ গঠনের চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।
রিজার্ভের বর্তমান স্তর বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য ইতিবাচক সংকেত প্রদান করে। উচ্চ রিজার্ভ দেশীয় মুদ্রার স্থিতিশীলতা বাড়ায়, মুদ্রা হ্রাসের ঝুঁকি কমায় এবং আন্তর্জাতিক ঋণ বা বাণিজ্যিক চুক্তিতে ক্রেডিট রেটিং উন্নত করতে সহায়তা করে। তবে বৈশ্বিক পণ্য মূল্যের অস্থিরতা এবং আমদানি চাহিদা পুনরায় বাড়ার সম্ভাবনা রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পদ্ধতি অনুসারে রিজার্ভের এই নতুন শীর্ষ দেশীয় মুদ্রা নীতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিকে প্রতিফলিত করে, তবে ভবিষ্যতে বহিরাগত অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভের পর্যাপ্ততা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।



