ম্যানোটনের ফেডারেল কারাগারে ১০ আগস্ট ২০১৯ তারিখে জেফ্রি এপস্টেইনের নিথর দেহ পাওয়া যাওয়ার ঠিক একদিন আগে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ নিউইয়র্ক জেলা অ্যাটর্নি অফিসে তার মৃত্যুর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি (ডেথ স্টেটমেন্ট) খসড়া করা হয়েছিল। এই নথি সম্প্রতি প্রকাশিত গোপন নথির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে এবং এপস্টেইনের মৃত্যুর চারপাশে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ডকুমেন্টে দেখা যায়, ৯ আগস্টের খসড়া বিবৃতি নির্দিষ্ট তারিখসহ প্রস্তুত করা হয়েছিল, যদিও এপস্টেইনের দেহের আবিষ্কারের আগে কোনো আনুষ্ঠানিক মৃত্যুর ঘোষণা করা হয়নি। সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় এধরনের পূর্ব প্রস্তুতি অস্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয় এবং এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।
কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে, তবে এই নথি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ত্রুটির মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিন আগে ডেথ স্টেটমেন্ট প্রস্তুত করা মানে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে এপস্টেইনের মৃত্যুর সম্ভাবনা সম্পর্কে অগ্রিম ধারণা ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ, মানব পাচারসহ বহু গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, তার কাছে বিশ্বব্যাপী ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের গোপন তথ্য সংরক্ষিত ছিল, যা তার মৃত্যুর পর বহু বিচারিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
বহু শিকারী ও তাদের আইনজীবী এই তথ্যের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছিলেন, তবে ডেথ স্টেটমেন্টের অগ্রিম প্রস্তুতি তাদের জন্য নতুন বাধা সৃষ্টি করেছে। এপস্টেইনের মৃত্যু শিকারীদের আইনি লড়াই থেকে রক্ষা করতে পারে, কারণ তার গোপন তথ্যের প্রকাশে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ওপর চাপ কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রশাসন এপস্টেইনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করে আসছে, তবে প্রকাশিত নথিতে তার মৃত্যুর পূর্বে প্রস্তুত করা ডেথ স্টেটমেন্টের উল্লেখ এই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নথির অসামঞ্জস্যতা ও তথ্যের কাটছাঁটের কারণে জনমত বিভক্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এপস্টেইনের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। নথির কিছু অংশের সম্পাদনা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বাদ পড়া নিয়ে ব্যবহারকারীরা সরকারী ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে।
এই পরিস্থিতিতে ফেডারেল বিচার বিভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক সংস্থা নথির যথার্থতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, ডেথ স্টেটমেন্টের অগ্রিম প্রস্তুতি কীভাবে ঘটেছে তা স্পষ্ট না হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।
অধিকন্তু, এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার বিরুদ্ধে চলমান ফেডারেল মামলায় নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। যদি নথিতে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো অপরাধমূলক কাজের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হতে পারে।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় শিকারী ও তাদের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ফেডারেল প্রোসিকিউটর অফিসের দায়িত্ব বাড়বে। নথির প্রকাশের ফলে শিকারের ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা নিয়ে নতুন আলোচনার দরজা খুলে যাবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নথির গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালু করেছে। এই পর্যালোচনা শেষ হলে নথির মূল উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতির পেছনের কারণ স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, এপস্টেইনের মৃত্যুর এক দিন আগে ডেথ স্টেটমেন্টের প্রস্তুতি প্রকাশিত গোপন নথি নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। নিরাপত্তা ত্রুটি, আইনি জটিলতা এবং শিকারের ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা এই ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে, এবং পরবর্তী তদন্তের ফলাফল দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করবে।



