ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রঞ্জি ট্রফি কোয়ার্টার ফাইনালে জম্মু ও কাশ্মির দল ৫৬ রানের পার্থক্যে মধ্যপ্রদেশকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে স্থান পায়। ৬৭ বছর পর এই ঐতিহাসিক সাফল্য দল ও সমর্থকদের জন্য গর্বের মুহূর্ত।
দীর্ঘ ৬৭ বছরের অপেক্ষার পর, জম্মু ও কাশ্মিরের এই অগ্রগতি রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করে। পূর্বে কোনো সেমিফাইনাল appearance না থাকলেও, এই জয় তাদেরকে টুর্নামেন্টের শেষ চারে প্রথমবারের মতো নিয়ে আসে।
কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি হোলকার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জম্মু ও কাশ্মিরের ব্যাটিং ও বোলিং দুটোই শক্তি দেখায়। মধ্যপ্রদেশের লক্ষ্য ছিল ২৯১ রানে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিততে, তবে শেষ পর্যন্ত তারা ৫৬ রানে হেরে যায়।
বোলিং দিক থেকে জম্মু ও কাশ্মিরের একক রত্ন ছিল দ্রুতগতি পেসার আকিব নবী। প্রথম ইনিংসে তিনি মাত্র ৪০ রানে ৭ উইকেট নেন, যা মধ্যপ্রদেশের শীর্ষ ক্রমকে দ্রুত ভেঙে দেয়। তার সঠিক লাইন ও লেন্থে ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে আকিবের পারফরম্যান্স আরও ধারাবাহিক থাকে; তিনি ৭০ রানে ৫ উইকেট নেন। মোট ১১২ রানে ১২ উইকেটের এই পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ বোলিং শোয়ারের তালিকায় তাকে শীর্ষে রাখে। তার এই দুই ইনিংসের গড় ৯.৩৩, যা তার বোলিং দক্ষতার প্রমাণ।
এই মৌসুমে আকিব নবী ইতিমধ্যে ৪৬টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা তাকে রঞ্জি ট্রফির শীর্ষ বোলারদের মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। তার ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলা দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুরক্ষা প্রদান করেছে।
মধ্যপ্রদেশের ব্যাটিং শুরু হয় ২৯১ রানের লক্ষ্য নিয়ে। চতুর্থ দিনের সূচনায় তারা ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারায়, যা চেজের গতি কমিয়ে দেয়। শুরুর এই চাপ দলকে দ্রুত রিফ্লেক্স করতে বাধ্য করে।
অলরাউন্ডার সারাংশ জৈন ৬৪ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন, যা দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তার আক্রমণাত্মক শট ও রোটেশন ব্যাটিং মধ্যপ্রদেশকে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেয়, তবে তা যথেষ্ট না হয়ে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়।
মধ্যপ্রদেশের ব্যাটসম্যানরা পরবর্তী ওভারে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে। আকিবের ধারাবাহিক বোলিং চাপের ফলে মাঝারি স্কোরে দলটি আটকে যায়, এবং শেষ পর্যন্ত ২৯১ রানের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না।
শেষ উইকেটে আরিয়ান পান্ডে ও কুলদীপ সেন একসাথে ২৩ রান যোগ করেন, যদিও তারা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারেনি। তাদের ছোটো প্রতিরোধের পরেও জম্মু ও কাশ্মিরের বোলাররা শেষ পর্যন্ত দলকে রক্ষা করে।
এই জয়ের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মির রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে প্রবেশ করে, যা তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো। দলটি এখন সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে।
সেমিফাইনালের সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে দলটি ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ শিবিরে মনোযোগ দিয়ে পরবর্তী ম্যাচের জন্য কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত। এই জয় দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করেছে।



