ধিরাগু ধিভেহি প্রিমিয়ার লিগের শেষ রাউন্ডে, গ্রিন স্ট্রিটস দলটি নতুন রেডিয়েন্টের সঙ্গে নির্ধারিত ম্যাচে উপস্থিত না হয়ে, রিলিগেশন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গেমটি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তবে গ্রিন স্ট্রিটসের অপ্রতুল উপস্থিতি লিগের নিয়ম অনুযায়ী ২-০ ফলাফলে ম্যাচটি ফরফেট করা হয়। এই ফলাফল তাদের গড়ে থাকা গোল পার্থক্য বজায় রেখে, অবনতি থেকে রক্ষা করে।
লিগের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল ম্যাচে না উপস্থিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২-০ স্কোরে পরাজয় স্বীকার করতে হয়। গ্রিন স্ট্রিটসের ক্ষেত্রে, যদি তারা চার গোলের বেশি পার্থক্যে হারে, তবে গোল পার্থক্যের ভিত্তিতে অবনতি হতো। তবে ফরফেট স্কোরের ফলে তারা নিরাপদে লিগে টিকে রইল।
অবনতি নির্ধারিত দল ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া, শেষ ম্যাচে জয়লাভের পরেও রিলিগেশন তালিকায় নামল। ভ্যালেন্সিয়া তৎক্ষণাৎ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, গ্রিন স্ট্রিটসের এই আচরণকে “খারাপ” ও “ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণের প্রচেষ্টা” বলে অভিযুক্ত করে। তারা উল্লেখ করে, এই পদক্ষেপটি ভ্যালেন্সিয়া এবং নতুন রেডিয়েন্টের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব মালদ্বীপ (FAM) ঘটনাটির পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। গ্রিন স্ট্রিটসের বিরুদ্ধে স্থানান্তর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ৫০,০০০ মালদ্বীপি রুফিয়া (প্রায় £২,৩৮০) জরিমানা আরোপ করে। এছাড়া ক্লাবকে ভবিষ্যতে অনুরূপ আচরণ পুনরাবৃত্তি করলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করে। তবে FAM ফলাফলকে অপরিবর্তিত রেখে, রিলিগেশন তালিকাকে নিশ্চিত করে।
গ্রিন স্ট্রিটসের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়, যেখানে তারা কোনো ইচ্ছাকৃত ফরফেটের অভিযোগ অস্বীকার করে। দলটি দাবি করে, উপস্থিতি না হওয়ার কারণ প্রযুক্তিগত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত এবং রিলিগেশন এড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল না। এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও ভ্যালেন্সিয়া সন্তুষ্ট নয়।
ভ্যালেন্সিয়া আবার একটি প্রকাশ্যে জানায়, FAM-এর সিদ্ধান্তে তারা ন্যায়বিচার পায়নি এবং এটি পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে করে। তারা উল্লেখ করে, এই রায়ে লিগের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ক্লাবের মুখে ভবিষ্যতে এ বিষয়টি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) ও ফিফা-তে তুলে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
এই বিতর্কের পর, লিগের পরবর্তী ম্যাচসূচি প্রকাশিত হয়েছে। গ্রিন স্ট্রিটসের স্থানান্তর নিষেধাজ্ঞা মানে, তারা নতুন খেলোয়াড় সই করতে পারবে না, যা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ভ্যালেন্সিয়া তাদের আপিল প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লিগের অন্যান্য দলগুলোও এই ঘটনার পর সতর্কতা অবলম্বন করেছে। তারা বলেছে, ভবিষ্যতে কোনো দলই ম্যাচে অনুপস্থিতি না করে, যাতে লিগের প্রতিযোগিতা ন্যায়সঙ্গত থাকে। FAM-এর তত্ত্বাবধানের অধীনে, নিয়মের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনায় মালদ্বীপের ফুটবল সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আলোচনা দেখা গেছে। ভক্ত ও বিশ্লেষকরা গ্রিন স্ট্রিটসের কৌশলকে অনৈতিক বলে সমালোচনা করেছে, আর অন্যদিকে কিছু লোক দলটির আর্থিক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেছে। তবে সকলেই একমত যে, লিগের স্বচ্ছতা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, গ্রিন স্ট্রিটসের শেষ ম্যাচে না উপস্থিতি লিগের রিলিগেশন তালিকাকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে, যা ভ্যালেন্সিয়ার অবনতি ও FAM-এর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দিকে নিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে, লিগের নিয়ম ও শাসন কাঠামোকে শক্তিশালী করা হবে।



