হ্যামবার্গের স্টা পাউলি শনি রাতে স্টুটগার্টকে পরাজিত করে বুন্ডেসলিগার অবনতি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। ম্যাচটি ভলফসবার্গ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষ স্কোর ১-০, যেখানে স্টা পাউলির একমাত্র গোলের কৃতিত্ব ম্যানোলিস স্যালিয়াকাসের।
স্টা পাউলির এই জয় দলটির ঐক্যের শক্তিকে পুনরায় প্রমাণ করেছে। শুরুর তিন ম্যাচে দুই জয় ও ড্র নিয়ে শীর্ষে উঠে আসা দলটি পরের সময়ে ধারাবাহিক নয়টি পরাজয়ের মুখোমুখি হয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষয় করে দেয়। তবে এই পরাজয়গুলো সত্ত্বেও দলটি শেষ পর্যন্ত লিগে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
স্টুটগার্টের অবস্থানও সহজ ছিল না। তারা শীতল শীতের পর্বে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্থান নিশ্চিত করে এবং ডিএফবি পোকালের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। তবে লিগে তাদের একমাত্র জয় হেইডেনহাইমের বিরুদ্ধে, যা তাদের আক্রমণাত্মক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া দলটি দীর্ঘ আঘাতের তালিকায় ভুগছে, যা তাদের মূল খেলোয়াড়দের ঘাটতি বাড়িয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের আগে স্টুটগার্ট উত্তেজনাপূর্ণ ফর্মে ছিল এবং উত্তর দিকে ভ্রমণ করে স্টা পাউলির ঘরে প্রবেশ করেছিল। কোচ আলেকজান্ডার ব্লেসিনের দলটি ‘সিজ মানসিকতা’ নিয়ে খেলতে প্রস্তুত ছিল, যা তিনি পরে ম্যাচের পর উল্লেখ করেন। এই মানসিকতা দলকে কম ঝুঁকি নিয়ে আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে সহায়তা করে।
স্টা পাউলির প্রথম গোলটি ৬০তম মিনিটে ঘটেছে। স্যালিয়াকাস বক্সের প্রান্ত থেকে একটি নিম্ন গতি শট মারেন, যা গার্ডের নিচে দিয়ে জালে গিয়ে নেটের পিছনে গিয়ে যায়। এই গোলটি দলের প্রথম হোম গোল ছিল, যা পাঁচটি প্রচেষ্টার পর শেষমেশ সফল হয়।
গোলের পর স্টা পাউলির রক্ষণাবেক্ষণ শক্তিশালী ছিল। স্টুটগার্টের বেশ কয়েকটি আক্রমণী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গার্ডের রক্ষকরা দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করেন এবং কোনো অতিরিক্ত গোল না দিয়ে ম্যাচটি শেষ করেন।
স্টুটগার্টের কোচ সেবাস্টিয়ান হোয়েনেসের দলটি শেষ মুহূর্তে আক্রমণ বাড়িয়ে দিলেও ফলাফল বদলাতে পারেনি। স্টা পাউলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত কনট্রা-আক্রমণ তাদেরকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ম্যাচের পর ব্লেসিন দলের ‘সিজ মানসিকতা’কে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, দলটি এখন আর কিছু হারানোর নেই এবং এই মানসিকতা তাদেরকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই জয় দলকে লিগে বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এনে দিয়েছে।
স্টা পাউলির এই জয়কে দলটি ‘অপ্রত্যাশিত মুহূর্তের মাস্টার’ হিসেবে বর্ণনা করে। ধারাবাহিক পরাজয়ের পরেও তারা নতুন কৌশল ও শক্তি দিয়ে মাঠে ফিরে এসেছে।
স্টুটগার্টের জন্য এই পরাজয় একটি সতর্কবার্তা, কারণ তাদের আঘাতের তালিকা এবং সীমিত জয় তাদের লিগে অবস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তবে তারা এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্থান রক্ষা করতে এবং পোকাল জয় করতে চায়।
স্টা পাউলি এখন লিগের নিম্নাংশে অবস্থান বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। পরবর্তী ম্যাচে তারা পুনরায় জয় অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে অবনতি ঝুঁকি কমে।
এই ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় যে স্টা পাউলি শটের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছে এবং গোলের গড় সময় কমিয়ে দিয়েছে, যা তাদের আক্রমণাত্মক দক্ষতা বাড়িয়েছে। স্টুটগার্টের শটের সঠিকতা কম ছিল এবং তারা রক্ষণাবেক্ষণে দুর্বলতা দেখিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, স্টা পাউলির স্টুটগার্টের বিরুদ্ধে জয় দলকে বুন্ডেসলিগার অবনতি লড়াইয়ে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে, এবং কোচের সিজ মানসিকতা ও স্যালিয়াকাসের গোলকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।



