সালমান খান প্রোডাকশনস ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘লাহোর ১৯৪৭’ চলচ্চিত্রটি থিয়েটার স্ক্রিনে উপস্থাপন করবে। মুক্তি স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ছবির ঐতিহাসিক পটভূমির সঙ্গে মানানসই। ছবির পরিচালক রজকুমার সান্তোষি, প্রধান চরিত্রে সানি দেোল এবং অন্যান্য বিশিষ্ট শিল্পী যুক্ত, ফলে শিল্প জগতের প্রত্যাশা বেড়েছে।
‘লাহোর ১৯৪৭’ প্রথমবারের মতো সানি দেোল, রজকুমার সান্তোষি এবং সালমান খান একসঙ্গে কাজ করছেন। এই ত্রয়ীর সমন্বয় হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবির গল্প ডঃ আসগার ওয়াজাহাতের জনপ্রিয় নাটক ‘জিস লাহোর নই ভেখ্যা, ও জাম্যা ই নই’ থেকে অনুপ্রাণিত, যা পার্টিশনের সময় মানবিক সম্পর্ক ও বেদনাকে কেন্দ্র করে।
চিত্রনাট্যটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং ব্যক্তিগত ক্ষতি, স্থানচ্যুতি এবং সহাবস্থানের জটিলতা তুলে ধরে। পার্টিশনের ভয়াবহতা যখন মানুষের জীবনে ছায়া ফেলেছিল, তখন কীভাবে পরিবার ও বন্ধুত্ব টিকে থাকে, তা ছবির মূল থিম। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দর্শকরা ইতিহাসের গৌরবময় মুহূর্তের পাশাপাশি মানবিক দিকটি অনুভব করতে পারবেন।
চিত্রের কাস্টে সানি দেোলের পাশাপাশি শাবানা আজমি, প্রীতি জিন্তা, কারন দেোল, আলি ফজাল এবং অভিমন্যু সিং অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেকের অভিনয়শৈলী ছবির বর্ণনায় নতুন রঙ যোগ করবে। বিশেষ করে শাবানা আজমি, যিনি বহু দশক ধরে বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে সমাদৃত, তার উপস্থিতি ছবির গৌরব বাড়াবে।
সঙ্গীতের দায়িত্বে রয়েছেন এ আর রহমান, যাঁর সুরে ছবির আবেগময় মুহূর্তগুলো আরও গভীর হবে। গীতিকার জাভেদ আহতারের কবিতাময় লিরিক্সের সঙ্গে মিলিয়ে সাউন্ডট্র্যাকটি দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করবে। এই সঙ্গীত জুটি পূর্বে বহু সফল প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করেছে, ফলে প্রত্যাশা বাড়ছে।
সালমান খান সম্প্রতি ছবির সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করেন। তিনি জানান, তিনি ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ‘লাহোর ১৯৪৭’ দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। ধর্মেন্দ্রের প্রিয় স্ক্রিপ্টের একটি অংশ তিনি দেখাতে পেরে আনন্দিত ছিলেন, যদিও ছবিটি এখনও মুক্তি পায়নি। এই অভিজ্ঞতা ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর পর আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।
ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ ছবির সৃষ্টিকর্তাদের জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে রয়ে যাবে। সালমান খান উল্লেখ করেন, ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে কাটানো সময় এবং ছবির প্রথম দৃশ্য দেখার সুযোগ তার জন্য বিশেষ গৌরবের বিষয়। এই ব্যক্তিগত সংযোগ ছবির প্রচারমূলক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
‘লাহোর ১৯৪৭’ ছবির উৎপাদন প্রক্রিয়া বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তবে রজকুমার সান্তোষি ও তার টিমের কঠোর পরিশ্রমে সব বাধা অতিক্রান্ত হয়েছে। শুটিংয়ের সময় লাহোরের ঐতিহাসিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে দর্শকরা সময়ের সঠিক পরিবেশ অনুভব করতে পারেন।
চিত্রের ভিজ্যুয়াল স্টাইল আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। রঙের প্যালেটটি পার্টিশনের কষ্টকর সময়ের মেজাজকে প্রতিফলিত করে, একই সঙ্গে আশা ও পুনর্গঠনের আলোকে তুলে ধরে। এই ভিজ্যুয়াল দৃষ্টিকোণ ছবির বর্ণনাকে সমর্থন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুক্তির সময়সূচি স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহে নির্ধারিত হওয়ায়, ছবির থিমের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সময়ে দর্শকরা দেশের স্বাধীনতা ও ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত অনুভূতি পেতে পারেন। চলচ্চিত্রটি বড় পর্দায় প্রদর্শিত হলে, তা শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং একটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হিসেবেও কাজ করবে।
‘লাহোর ১৯৪৭’ ছবির প্রচারমূলক ক্যাম্পেইনও শীঘ্রই শুরু হবে। টিজার পোস্টার ও ট্রেলার ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ছবির সঙ্গীতের প্রথম লিরিক্স প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গীতপ্রেমীদেরও আগ্রহ বাড়বে।
সামগ্রিকভাবে, সালমান খান প্রোডাকশনসের এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটি হিন্দি সিনেমার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘লাহোর ১৯৪৭’ কেবল পার্টিশনের কাহিনী নয়, বরং মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ও সহনশীলতার গল্প। মুক্তির পর দর্শকরা এই চলচ্চিত্রকে কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা সময়ই বলবে, তবে ইতিমধ্যে এটি শিল্প জগতের আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।



