কোলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ইতালির ক্যাপ্টেন ওয়েইন ম্যাডসেনের কাঁধের আঘাতের কারণে দলটি স্কটল্যান্ডের হাতে ৭৩ রানে পরাজিত হয়েছে। এটি ইতালির টি২০ আন্তর্জাতিক ইতিহাসে প্রথম উপস্থিতি, যেখানে দেশটি ফুটবলে চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে, তবে ক্রিকেটে এখনো কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
ইতালি টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয়। চতুর্থ ওভারে ফিল্ডিং করার সময় ম্যাডসেনের পা হোঁচট খেয়ে কাঁধ বিচ্যুত হয় এবং তিনি তৎক্ষণাৎ প্যাভিলিয়নে ফিরে আসেন, স্পষ্ট ব্যথা প্রকাশ করে। আঘাতের পর তিনি ব্যাটিং করতে পারেননি, ফলে দলের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি তৎক্ষণাৎ অনুভূত হয়।
ইতালির ব্যাটিং লাইন‑আপ ২০৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ১৩৪ রানে আটকে যায়। টিমের একমাত্র অর্ধশতক পূর্ণ করা ব্যাটসম্যান ছিলেন বেন মানেন্টি, যিনি ৫২ রান করে সর্বোচ্চ স্কোর করেন। ক্যাপ্টেনের অনুপস্থিতিতে দলটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শট মিস করে এবং শেষ পর্যন্ত ৭৩ রানে হেরে যায়।
স্কটল্যান্ডের ওপেনার জর্জ মুনসি ৫৪ বোলের মধ্যে ৮৪ রান করে দ্রুত শীর্ষে উঠে আসে, যা ইতালির ডিফেন্সকে বড় চাপের মধ্যে ফেলে। মুনসির আক্রমণাত্মক খেলা স্কটল্যান্ডকে স্বচ্ছন্দে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে এবং শেষ পর্যন্ত ২০৮ রানে জয় নিশ্চিত করে।
ইতালির বোলাররা দিনভর গরমের মুখোমুখি হয়ে স্কটল্যান্ডের ব্যাটিংকে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করে, তবে মুনসির আক্রমণাত্মক শটগুলো তাদের পরিকল্পনা নষ্ট করে দেয়। বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্সে কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত থাকলেও সামগ্রিকভাবে স্কটল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন‑আপকে থামাতে পারেনি।
বেন মানেন্টি ম্যাচের পর দলের প্রস্তুতি নিয়ে মন্তব্য করেন, তিনি বলেন দলটি ছয় থেকে আট মাসের প্রস্তুতি নিয়ে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে। ক্যাপ্টেনের শুরুর কয়েক ওভারে আঘাত পেয়ে পুরো পরিকল্পনা বদলে যায়, তবে তিনি দলের সংগ্রামকে ‘অনুভূতিপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেন।
ভাইস‑ক্যাপ্টেন হ্যারি মানেন্টি ক্যাপ্টেনের অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তিনি উল্লেখ করেন ম্যাডসেনের পতন কঠিন ছিল এবং আশা করেন তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। হ্যারি দলের নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ক্যাপ্টেনের অনুপস্থিতি দলের মনোবলে প্রভাব ফেলেছে।
দলীয় কোচ জন ড্যাভিসন ম্যাডসেনের আঘাতের পর দলের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষণ করেন, তিনি বলেন কাঁধের বিচ্যুতি দ্রুত সেরে ওঠা কঠিন, তবে স্ক্যানের ফলাফল জানার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ড্যাভিসন আরও উল্লেখ করেন, প্রথম ম্যাচে বড় চাপের মুখোমুখি হওয়া দলটির জন্য চ্যালেঞ্জপূর্ণ ছিল, তবে এটি তাদের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সের জন্য শিক্ষণীয় হবে।
ইতালি দল এখন পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তারা টুর্নামেন্টের অন্যান্য দলের মুখোমুখি হবে। ক্যাপ্টেনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং ব্যাটিং লাইন‑আপের স্থিতিশীলতা দলের পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি হবে। এই অভিজ্ঞতা ইতালির ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।



