ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস আজ টেজগাঁও অফিসে সিনিয়র সেক্রেটারি ও সেক্রেটারিদের সমবেত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত রেফারেন্ডামে যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসে, তবে দেশের শাসন‑ব্যবস্থা মৌলিক পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হবে এবং পূর্বের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসন আর ফিরে আসবে না।
বক্তৃতার সময় ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস রেফারেন্ডাম ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই দুইটি প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক কাঠামোকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রূপান্তর প্রদান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, রেফারেন্ডাম ও নির্বাচন একসঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা স্থাপন করবে।
বিকালের দিকে, প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে মিডিয়াকে সংক্ষিপ্তভাবে জানিয়ে দেন যে, ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। তিনি রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর হবে। তিনি আশ্বাস দেন, ভোটারদের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে এবং নির্বাচনের সময় কোনো অনিয়মের সম্ভাবনা কমে যাবে।
পূর্বের নির্বাচনগুলোকে তিনি ‘নকল অনুশীলন’ ও ‘ভুয়া নির্বাচন’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ছিল। নতুন নির্বাচনকে তিনি পূর্বের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন, স্বচ্ছ এবং বৈধ বলে বর্ণনা করেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কাঠামোর অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরিবর্তন ঘটবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের এখন সরকারী প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করবে।
প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন ডিজিটাল টুল প্রয়োগ করছে। ভোটারদের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যা ভোট কিভাবে দিতে হবে তা নির্দেশ করে। এছাড়া প্রায় ৪৩,০০০ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষায়িত অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।
‘ইলেকশন বন্ধু’ উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য ও সহায়তা প্রদান করা হবে, এবং প্রায় ২৫,৭০০ আইন প্রয়োগকারী কর্মীর জন্য বডি ক্যাম সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে রেকর্ড করা যায়।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস শেষ পর্যন্ত আশাবাদী স্বরে বলেন, রেফারেন্ডাম ও নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দিগন্তকে নতুন করে গঠন করবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দেবে। তিনি সকল নাগরিককে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের অংশ হতে আহ্বান জানান।



