22 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসিডনিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রপতি হেরজগের সফরে পুলিশ গুল্ম গ্যাস ব্যবহার, প্রতিবাদকারীদের গ্রেপ্তার

সিডনিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রপতি হেরজগের সফরে পুলিশ গুল্ম গ্যাস ব্যবহার, প্রতিবাদকারীদের গ্রেপ্তার

সিডনি শহরের কেন্দ্রে সোমবার ইসরায়েলি রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হার্জগের চার দিনের সফরের সময় প্রতিবাদকারীদের ওপর গুল্ম গ্যাস ব্যবহার করা হয় এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও demonstrators-এর মধ্যে সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে। এই ঘটনাটি ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের ওপর বাড়তি উত্তেজনা এবং অস্ট্রেলিয়ার নতুন ‘মেজর ইভেন্ট’ আইন প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।

প্রতিবাদটি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের উদ্যোগে সংগঠিত হয়, যদিও ডিসেম্বর মাসে বন্ডি বিচের ধর্মীয় উৎসবে সংঘটিত গুলিবর্ষণ পরবর্তী জনসমাবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। গ্রুপটি প্রায় ৫,০০০ অংশগ্রহণকারীর প্রত্যাশা জানিয়েছিল এবং আইনগত বাধা সত্ত্বেও র্যালি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

হার্জগের সফরের অন্যতম প্রধান অনুষ্ঠান ছিল বন্ডি বিচে একটি শোকস্মৃতি গাছের মালা ও জেরুজালেম থেকে আনা দুইটি পাথর অর্পণ করা। এই সমুদ্রতটে ডিসেম্বর মাসে একটি বৃহৎ গুলিবর্ষণ ঘটেছিল, যেখানে ১৫ জনের বেশি প্রাণ হারায়, তাতে ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ের মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত। শোকের মুহূর্তে হার্জগের উপস্থিতি স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়কে সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার উচ্চপদস্থ ইহুদি নেতারা হার্জগের সফরকে শোকাহত সম্প্রদায়ের জন্য সান্ত্বনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে কিছু গোষ্ঠী দাবি করে যে গাজায় ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে তাকে আমন্ত্রণ করা উচিত ছিল না। হার্জগ এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তার সফরের উদ্দেশ্যকে শান্তি ও সংলাপের প্রচার হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ডিসেম্বরের গুলিবর্ষণের পর নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার ‘মেজর ইভেন্ট’ ক্ষমতা প্রয়োগ করে, যা পুলিশকে শহরের নির্দিষ্ট এলাকা বন্ধ, ব্যক্তিগত অনুসন্ধান এবং অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫,৫০০ ডলার জরিমানা আরোপের অনুমতি দেয়। এই বিধানটি বড় আকারের জনসমাবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে লক্ষ্য করে গৃহীত হয়।

সিডনির কেন্দ্রে সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা কালো-সাদা প্যালেস্টাইনীয় স্কার্ফ পরিধান করে এবং বিভিন্ন সাইন বহন করে। একটি সাইন-এ লেখা ছিল “আমি অ্যান্টি-সেমিটিক নই, আমি অ্যান্টি-জেনোসাইড”, আর অন্য সাইন-এ “হার্জগকে গ্রেপ্তার করুন” লেখা ছিল। অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করার পর “আমাদের march করতে দিন” চিৎকার করে, তবে ঘনিষ্ঠ পুলিশ উপস্থিতি তাদের অগ্রসর হতে বাধা দেয়।

প্রতিবাদে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গুল্ম গ্যাস ব্যবহার করে কিছু অংশগ্রহণকারীকে ছড়িয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে স্থানে ডাকা হয়। গুল্ম গ্যাসের প্রয়োগের পর কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হয়। এই পদক্ষেপটি আইনগত সীমার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও মানবাধিকার সংস্থার কাছ থেকে সমালোচনার মুখে পড়ে।

সিডনির পাশাপাশি মেলবোর্নেও একই সময়ে ছোট আকারের প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় প্যালেস্টাইন সমর্থকরা হার্জগের সফরের বিরোধিতা প্রকাশ করে। মেলবোর্নের প্রতিবাদে কোনো গুল্ম গ্যাস ব্যবহার করা হয়নি, তবে পুলিশ উপস্থিতি দৃঢ় ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজে হার্জগের সফরকে সামাজিক সংহতি ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বন্ডি বিচের শোকের পর এই সফর দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ বাড়াবে এবং সহনশীলতা জোরদার করবে। আলবানিজের এই মন্তব্য সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।

হার্জগ শোকস্মৃতি গাছের মালা অর্পণ করার সময় বলেন, “যখন এক ইহুদি আহত হয়, তখন সব ইহুদি কষ্ট অনুভব করে” এবং তিনি ইসরায়েল ও গাজা উভয়ের জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য সফরের মূল বার্তা হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা নীতি এবং জনসমাবেশের ওপর নতুন বিধানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে আশা করা যায়। সরকার কীভাবে আইন প্রয়োগ এবং মানবাধিকার রক্ষার মধ্যে সমতা বজায় রাখবে, তা পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments