22 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রতিটি কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছ থেকে

প্রতিটি কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছ থেকে

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় ধর্মীয় শিক্ষার নতুন উদ্যোগ জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় শিক্ষা নৈতিকতা গঠনে সহায়ক এবং সমাজের নৈতিক মানদণ্ডকে উঁচুতে তুলতে পারে। এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ১৩,০০০টি ধর্মীয় বই উপহার হিসেবে উপস্থাপন করেন।

সাক্ষাৎটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সৌজন্যে উপহারের বিনিময় করা হয়। উপদেষ্টা চৌধুরী (অব.) উল্লেখ করেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই বইগুলোকে ধর্মীয় শিক্ষার প্রচার ও বিতরণে ব্যবহার করবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বই ছাড়াও মন্ত্রণালয় প্রতিটি কারাগারে একজন ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

ধর্ম উপদেষ্টা চৌধুরী (অব.) ব্যাখ্যা করেন, ধর্মীয় শিক্ষকরা কারাগারের বন্দীদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বন্দীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা এবং সমাজে পুনঃপ্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা বন্দীদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কারাগারে একজন ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী ও নিয়োগ প্রক্রিয়া মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে। শিক্ষকরা ধর্মীয় গ্রন্থের পাঠ, নৈতিক আলোচনা এবং আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। এছাড়া, তারা বন্দীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরামর্শ সেশনও চালিয়ে যাবে, যাতে তাদের মানসিক ও আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণ হয়।

বই উপহারের অংশ হিসেবে, চৌধুরী (অব.) ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের হাতে কয়েকটি ধর্মীয় গ্রন্থ তুলে দেন। এই গ্রন্থগুলোতে ইসলামিক নীতি, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়িত্বের বিষয়বস্তু রয়েছে, যা কারাগার পরিবেশে শিক্ষার উপযোগী হিসেবে বিবেচিত। উপহারটি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করার লক্ষ্যে প্রদান করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন উপস্থিত ছিলেন। উভয় কর্মকর্তাই এই উদ্যোগের সমর্থন প্রকাশ করে, সরকারী নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষার সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি কারাগার ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি নতুন দিক উন্মোচন করবে।

এই ঘোষণার পর বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ধর্মীয় শিক্ষকের নিয়োগের ফলে কারাগারভিত্তিক পুনর্বাসন প্রোগ্রামগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ হবে। সরকারী নীতি অনুযায়ী, বন্দীদের পুনরায় সমাজে সংযুক্তি সহজতর করতে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। তাই, ধর্মীয় শিক্ষকরা ভবিষ্যতে পুনর্বাসন কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ মডেল গড়ে তুলতে পারে।

পরবর্তী ধাপে, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, নির্বাচিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, কারাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ এই শিক্ষকদের কাজের মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। সরকারী পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রধান কারাগারগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হবে, এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য কারাগারে এই ব্যবস্থা বিস্তৃত করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার (বাংলাদেশ সরকার) সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে চায়। ধর্মীয় শিক্ষার সংযোজনের মাধ্যমে বন্দীদের নৈতিক দিক শক্তিশালী করে, ভবিষ্যতে অপরাধের পুনরাবৃত্তি কমানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, এই পরিকল্পনা সফল হলে অন্যান্য সামাজিক পুনর্বাসন প্রকল্পেও অনুরূপ মডেল গ্রহণ করা হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments