গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সোমবার সকালে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় উল্লেখ করেন, মুদ্রা নীতি প্রয়োগে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্মুখীন হননি। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করেননি এবং অপারেশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চালানো হয়েছে। এই স্বতন্ত্রতা তাকে নীতি নির্ধারণে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে।
মুদ্রা নীতির সামগ্রিক ফলাফলকে তিনি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন। মূল সূচকগুলোতে লক্ষ্য অর্জিত হলেও, মূল্যস্ফীতি মাত্র ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা একমাত্র লক্ষ্য পূরণে তারা পিছিয়ে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, মুদ্রা নীতি অন্যান্য দিক থেকে সফল হলেও, মূল্যস্ফীতি হ্রাসে এখনও কাজ বাকি। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা উল্টে যাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় নীতি সুদের হার হ্রাসের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, একমাত্র লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পলিসি রেট কমানো যুক্তিসঙ্গত নয়। এই সিদ্ধান্ত মুদ্রা নীতি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি রোধে নেওয়া হয়েছে।
রিজার্ভের অবস্থানও দৃঢ় বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগস্ট মাস থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুসারে রিজার্ভ বজায় রাখা হয়েছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। উচ্চ নীতি সুদের হার বজায় রাখার ফলে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে এবং রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ছে।
তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন এখনও কার্যকর হয়নি। ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্টসহ কয়েকটি আইন সরকারে জমা দেওয়া সত্ত্বেও বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ সরকারই হোক না কেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেবে।
অবৈধ ব্যাংক খাতের অপব্যবহার ও লুটপাটের ঝুঁকি পুনরায় উত্থান না করার জন্য এই আইনগুলো জরুরি বলে তিনি জোর দেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে, আর্থিক সেক্টরের স্বচ্ছতা ও শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা দরকার।
রাজনীতিবিদদের স্বল্পমেয়াদী অর্থনৈতিক উত্থানকে ত্বরান্বিত করার ইচ্ছার বিপরীতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মডেলকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর রাজনৈতিক চাপ না দিয়ে স্বতন্ত্র নীতি চালানো উচিত।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, মুদ্রা নীতি সফল হলেও মূল্যস্ফীতি হ্রাসে অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন। রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান, উচ্চ সুদের হার এবং আইনগত কাঠামোর উন্নয়ন ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সীমাবদ্ধতা এবং আইনগত সংস্কারের অগ্রগতি দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে রয়ে যাবে।



