ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী দু-এক দিনের মধ্যে জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণাটি উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের পরে উপদেষ্টাদের সম্পদ জমা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে দেওয়া হয়েছে।
প্রেস সচিবের মতে, অধিকাংশ উপদেষ্টা ইতিমধ্যে তাদের সম্পদের স্টেটমেন্ট জমা দিয়েছেন এবং শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, “আপনারা পাবেন, আমি যতটুকু জানি, একজন বা দুজন ছাড়া সবাই সম্পদের বিবরণী দিয়েছেন।”
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পটভূমি ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সঙ্গে যুক্ত। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করা হয় এবং তিনি শপথ গ্রহণের পর দুই সপ্তাহের মধ্যে সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে এসে এখনও সম্পদের তালিকা প্রকাশিত হয়নি। এই দেরি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা মন্তব্য করে, “একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা বাস্তবায়িত হয়নি।”
বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জন। এর পাশাপাশি বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন, এবং প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় চারজন বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করছেন।
২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করে পুনরায় জোর দেন যে, সব উপদেষ্টা শীঘ্রই তাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে সকল সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক করা হবে।
এছাড়া, সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল নিয়োগের জন্য বিশেষ অধ্যাদেশ প্রণয়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সম্পদ প্রকাশের এই পদক্ষেপ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা সরকারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, এই ধারা যদি বাধ্যতামূলক করা যায়, তবে ভবিষ্যতে অন্য সরকারি পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
প্রেস সচিবের শেষ মন্তব্যে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সম্পদ বিবরণী শীঘ্রই পাবলিক হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ তা পর্যবেক্ষণ করবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখন এই প্রকাশের ফলাফল এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে নজর রাখছেন।



