দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গৃহায়ন ধানমন্ডি প্রকল্পে ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এতে দুদকের দুই প্রাক্তন কমিশনার, এক প্রাক্তন বিচারক এবং এক প্রাক্তন সচিবসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত।
দুদকের জনসংযোগ উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম সোমবার জানিয়ে বলেন, তদন্ত শেষে আটজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগগুলো গৃহায়ন ধানমন্ডি প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে উদ্ভূত।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মীরা সাধারণ ফ্ল্যাটের পরিবর্তে প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট অনুমোদন ও বরাদ্দ করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২২২তম ও ২২৫তম বোর্ড সভায় ‘বৈষম্যমূলক ও বিধিবহির্ভূত’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের নামভুক্ত ব্যক্তিরা হলেন দুদক ও বিটিআরসির প্রাক্তন কমিশনার, প্রাক্তন বিচারক জহুরুল হক এবং দুদকের প্রাক্তন কমিশনার ও প্রাক্তন সচিব মোজাম্মেল হক খান। উভয় ফ্ল্যাটই একই প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
অতিরিক্ত পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেলওয়ার হায়দার, প্রাক্তন সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহজাহান আলী, প্রাক্তন সদস্য (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) মইনুল হক আনছারী, প্রাক্তন সদস্য (পরিকল্পনা, নকশা ও বিশেষ প্রকল্প) বিজয় কুমার মন্ডল এবং প্রাক্তন সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) কাজী ওয়াসিফ আহমাদ।
এছাড়াও মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার অভিযোগে প্রাক্তন রেজিস্ট্রার জেনারেল (সিনিয়র জেলা জজ) ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য সৈয়দ আমিনুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত বছর ৫ মে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রকাশ করেছিল যে, আওয়ামী লীগ শাসনকালে নীতিমালা ভেঙে ১২ কর্মকর্তার নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধানমন্ডি-৬ এর প্লট নম্বর ৬৩ মূলত সরকারি খাস জমি, যার বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি।
সেই একই জমি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে তা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ১৪ তলা একটি ভবন নির্মাণের আদেশ দেওয়া হয়। ভবনটিতে দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট এবং নিচতলায় দুই তলা গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রকল্পের নির্মাণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ তলা ভবনের মধ্যে দুইটি ডুপ্লেক্স ইউনিট এবং গ্যারেজসহ মোট চারটি তলা পার্কিং এলাকা অন্তর্ভুক্ত। এই কাঠামোটি সরকারি জমির ওপর ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ‘দিনের ভোট রাতে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত’ ১২ কর্মকর্তার পদমর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং পরে তাদেরকে পুরস্কারস্বরূপ ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়। এই বিষয়টি পূর্বে মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।
দুদক এখন সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করবে এবং মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করবে। আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ-প্রসঙ্গ উপস্থাপন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তি, জরিমানা বা কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মামলাটি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। দুদক উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে গৃহায়ন প্রকল্পের তদারকি ও স্বচ্ছতা বাড়ানো হবে।



