লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি (WBD) এর গ্লোবাল স্ট্রিমিং ও গেমস সিইও জে.বি. পারেট্তে ২০২৭ সালে হবো ম্যাক্সে হ্যারি পটার সিরিজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে এই স্ট্রিমিং পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা ২৬ মার্চ হবে। এই সিরিজকে তিনি দশকের সেরা স্ট্রিমিং ইভেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেন, যা স্ট্রিমিং ইতিহাসে অন্যতম বড় ঘটনা হতে পারে।
পারেট্তের মতে, হবো ব্র্যান্ডের মূল বৈশিষ্ট্য হল গুণগত মানের ওপর জোর, যা দর্শকদের দ্রুত উপভোগ ও আলোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি উল্লেখ করেন, “তিনটি অক্ষরই গুণমানের প্রতীক” এবং বাজারের অন্যান্য ভলিউম-চালিত বা ক্যাবল-সদৃশ পরিষেবার তুলনায় হবো ম্যাক্সের পদ্ধতি ভিন্ন। তিনি আরও বলেন, “বেশি হওয়া ভাল নয়, ভাল হওয়াই যথেষ্ট” এবং আগামী দুই বছরের কন্টেন্ট পরিকল্পনা কোম্পানির ইতিহাসে সর্বশক্তিশালী ও লক্ষ্যভিত্তিক হবে।
সিরিজটি জে.কে. রোলিংয়ের সাতটি ফ্যান্টাসি উপন্যাসকে নতুনভাবে উপস্থাপন করবে। এই বইগুলো বিশ্বব্যাপী ছয় কোটি কপির বেশি বিক্রি হয়েছে, আর আটটি চলচ্চিত্রের মোট আয় সাত বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রতিটি সিজন একেকটি বইয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে, ফলে পুরো গল্পের ধারাবাহিকতা ও গভীরতা বজায় থাকবে।
প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন সাকসেশন সিরিজের লেখিকা ফ্রান্সেসকা গার্ডিনার, যাকে শো রানার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। গেম অফ থ্রোনসের অভিজ্ঞ পরিচালক মার্ক মাইলড সিরিজের কয়েকটি পর্ব পরিচালনা করবেন, যা ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাস্টিংয়ে কিছু নতুন মুখের পাশাপাশি পরিচিত অভিনেতাদের সমন্বয় দেখা যাবে। আরাবেলা স্ট্যানটন হরমায়নি গ্রেঞ্জার চরিত্রে অভিনয় করবেন, আর আলাস্টেয়ার স্টাউট রন উইজলি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী জ্যানেট ম্যাকটিয়ার মিনার্ভা ম্যাকগোনাগাল প্রফেসর হিসেবে, এবং নিক ফ্রস্ট হ্যাগ্রিডের ভূমিকায় দেখা যাবে।
বৈচিত্র্যের দিক থেকে সিরিজটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়। পাপা এসসিডু, যিনি “আই মে ডেস্ট্রয় ইউ” তে তার পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত, সেরাস স্নেপের ভূমিকায় অভিনয় করবেন, যা পূর্বের কাস্টিংয়ের তুলনায় একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।
এই ঘোষণার পর দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য এই প্রকল্পটি শুধু একটি বড় বিনিয়োগ নয়, বরং গ্লোবাল ফ্যানবেসকে আকৃষ্ট করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হবো ম্যাক্সের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দর্শকরা শীঘ্রই জাদুকরী জগতের নতুন রূপে ডুবে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৭ সালে হবো ম্যাক্সে হ্যারি পটার সিরিজের সূচনা স্ট্রিমিং শিল্পে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। গুণগত মান, শক্তিশালী কন্টেন্ট পরিকল্পনা এবং বৈচিত্র্যময় কাস্টের সমন্বয়ে এই প্রকল্পটি দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা যায়।



