ঢাকায় ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস শীর্ষ ব্যুরোক্রেটদের সমাবেশে সরকার পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সকাল ১০:১৫ টায় শুরু হওয়া সভার সময় সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় সচিবদের উপস্থিতি স্বীকার করে ধন্যবাদ জানান। এই সমাবেশটি পরামর্শক পরিষদের অধিবেশনের পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সভা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের অফিসে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়, যা সকাল ১০:১৫ থেকে ১১:০০ পর্যন্ত চলেছিল। উপস্থিতি প্রায় সত্তরজন সচিবের কাছাকাছি ছিল, যা সরকারের বিস্তৃত প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতিনিধিত্ব করে। একমাত্র ক্যাবিনেট সচিবই সমাবেশে সকল সচিবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস সভার শুরুতেই উল্লেখ করেন যে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনকালে নির্ধারিত বেশ কিছু লক্ষ্য ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই সাফল্যগুলো সরকারী কাজের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করেছে। ভবিষ্যতে নতুন সরকার এই অর্জিত লক্ষ্যগুলোর ভিত্তিতে বাকি থাকা কাজগুলো সম্পন্ন করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
উপদেষ্টা তিনটি মূল বিষয়ের ওপর কাজের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন: সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং নির্বাচন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই তিনটি ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও অনেক প্রস্তাবনা প্রস্তুত রয়েছে, যা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস আশা প্রকাশ করেন যে পরবর্তী সরকার এই প্রস্তাবনাগুলোকে বিবেচনা করে নীতি নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করবে।
সভায় উপস্থিত সচিবদের মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে এসেছেন, যার মধ্যে অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও পরিবহন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত। তারা সকলেই সরকারের কার্যক্রমে ব্যুরোক্রেটিক সমর্থন প্রদান করে আসছে, যা অন্তবর্তীকালীন সরকারের কার্যকর পরিচালনায় সহায়তা করেছে। এই সমর্থন ছাড়া সরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হতো।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের ধন্যবাদ জ্ঞাপনটি শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি নির্দেশনামূলক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বর্তমান প্রশাসনের সাফল্যগুলোকে ভিত্তি করে পরবর্তী সরকারকে আরও দৃঢ় ও ধারাবাহিক নীতি গ্রহণ করতে হবে। এই বার্তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক সুর তৈরি করেছে।
সভা শেষে ক্যাবিনেট সচিবের পক্ষ থেকে সকল সচিবের পক্ষ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত ধন্যবাদসূচক বক্তব্য শোনা যায়। তিনি ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে ব্যুরোক্রেটিক সংস্থার সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। এই পারস্পরিক সমঝোতা সরকারী কাজের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের এই ধন্যবাদসূচক সমাবেশটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে এই ধরনের সমাবেশ সরকারী নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যুরোক্রেটিক সহায়তার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করে।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের বক্তব্যে উল্লেখিত তিনটি মূল অগ্রাধিকার—সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং নির্বাচন—ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই সমাবেশটি অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রশাসনিক সাফল্যকে স্বীকৃতি দেয় এবং পরবর্তী সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সরকার ও ব্যুরোক্রেটিক সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত থাকলে দেশের উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত অগ্রসর হবে।



