জার্মানির উৎপাদিত চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক বক্স অফিস ২০২৫ সালে ১১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার (২৫০ মিলিয়ন ইউরো) পৌঁছেছে। একই বছরে জার্মানির বাইরে বিক্রি হওয়া টিকিটের সংখ্যা ৩৩ মিলিয়নেরও বেশি, যা আগের বছরের ১৫.৮ মিলিয়নের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
এই তথ্যগুলো জার্মান ফিল্মস (German Films) নামক জাতীয় প্রচার সংস্থার অফিসিয়াল রেকর্ড থেকে প্রাপ্ত। সংস্থা উল্লেখ করেছে যে অধিকাংশ জার্মান প্রোডাকশন এবং জার্মানি-বিদেশী সহ-প্রযোজনা এই বিক্রয়ের প্রধান অংশীদার। বিক্রয় তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে জার্মানির বাইরে টিকিট বিক্রয় ২০২৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিক্রয়ের তীব্র বৃদ্ধি কেবল সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ নয়, বরং মাঝারি বাজেটের স্টুডিও চলচ্চিত্রের সহ-প্রযোজনা পার্টনার হিসেবে জার্মানির শক্তিশালী অবস্থানকে প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক স্টুডিওগুলো এখন জার্মানির উৎপাদন ক্ষমতা ও আর্থিক সহায়তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকান বাজারে জার্মান প্রোডাকশনগুলোকে প্রিমিয়াম কন্টেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী জার্মান প্রোডাকশনগুলোর মধ্যে ‘Regretting You’ শীর্ষে। এই চলচ্চিত্রটি কলিন হুভারের উপন্যাসের ভিত্তিতে তৈরি, যেখানে অ্যালিসন উইলিয়ামস ও ডেভ ফ্রাঙ্কো প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। পারামাউন্ট পিকচার্স এবং জার্মানির কনস্ট্যান্টিন ফিল্ম যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে, এবং গ্লোবাল বক্স অফিসে ৯০ মিলিয়ন ডলার অর্জন করেছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওয়েস অ্যান্ডারসনের ‘The Phoenician Scheme’। এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী ৪০.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে এবং ফোকাস ফিচার্স (ফোকাস ফিচার্স) ও জার্মানির স্টুডিও বেবেলসবার্গের যৌথ আর্থিক সহায়তায় তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় সফলতার দিকেও কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেখা যায়। অ্যানিমেটেড ফিচার ‘Stitch Head’ যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিয়ারক্লিফ এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে হ্যালোইন সময়ে বড় স্ক্রিনে প্রকাশিত হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেশি আয় করে। ব্রিয়ারক্লিফের বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোতে থিয়েটার স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয়, যা তার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়।
কনস্ট্যান্টিনের অস্কার-নামিনেটেড সত্য-ভিত্তিক থ্রিলার ‘September 5’ বিশ্বব্যাপী ৮.২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এই চলচ্চিত্রটি জার্মানির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
রপ্তানি বাজারে সবচেয়ে বড় গ্রাহক ছিল প্রতিবেশী অস্ট্রিয়া, যেখানে জার্মান প্রোডাকশনের টিকিট বিক্রি ২১.৭ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৬ মিলিয়ন ডলার) হয়েছে। অস্ট্রিয়া জার্মান চলচ্চিত্রের জন্য প্রধান গন্তব্য হিসেবে উজ্জ্বল অবস্থান বজায় রেখেছে।
এর পরের শীর্ষে ফ্রান্স রয়েছে, যেখানে জার্মান চলচ্চিত্রের বিক্রয় ১৮.৫ মিলিয়ন ডলার, আর যুক্তরাষ্ট্রে এই সংখ্যা ১৩ মিলিয়ন ডলার। এই তিনটি দেশ মিলিয়ে জার্মানির আন্তর্জাতিক আয় প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি গঠন করে।
অস্ট্রিয়ায় বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছে ‘Manitou’s Canoe’ নামের সিক্যুয়েল, যা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত স্পু ফেস্টিভাল কমেডি হিসেবে পরিচিত। এই চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক মোট আয় ১১.৫ মিলিয়ন ডলার, যার বেশিরভাগ অংশ অস্ট্রিয়ার টিকিট বিক্রয় থেকে এসেছে।
সামগ্রিকভাবে, জার্মানির চলচ্চিত্র শিল্পের রপ্তানি প্রবণতা শক্তিশালী হয়েছে এবং মধ্যম বাজেটের স্টুডিও প্রকল্পে সহ-প্রযোজনা পার্টনার হিসেবে তার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। এই প্রবণতা আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
উল্লেখযোগ্য যে, অধিকাংশ জার্মান প্রোডাকশন এখনও বিদেশি বাজারে বিক্রি হয়, যা দেশের চলচ্চিত্র নীতি ও বিনিয়োগ কৌশলের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। শিল্পের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।



