বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ ঢাকা-৮ নির্বাচনী র্যালিতে বক্তৃতা দিয়ে দেশের শাসন ও রাজনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য সুন্দর শব্দ বলা সহজ, তবে দেশের পরিচালনা আরেক স্তরের চ্যালেঞ্জ। র্যালি অনুষ্ঠিত হয় পির জাঙ্গি মাজার রোডে, দুপুরের সময়।
তারেক বলেন, মঞ্চে বড় বড় ভাষণ দিয়ে তালি পাওয়া সহজ, কিন্তু জনগণের জন্য বাস্তব পরিকল্পনা ছাড়া শাসন সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা, কার্যকর প্রোগ্রাম এবং যথাযথ অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে এসব উপাদান অনুপস্থিত বলে তিনি সমালোচনা করেন।
বক্তৃতায় তিনি প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন যে, তাদের কাছে কী পরিকল্পনা, কী প্রোগ্রাম এবং কী অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারেকের মতে, শুধুমাত্র বড় বড় শব্দে জনগণকে মুগ্ধ করা যথেষ্ট নয়, বাস্তব নীতি ও কর্মসূচি ছাড়া শাসন ব্যর্থ হবে।
তারেক আরও উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষের কিছু নেতা ও তাদের বন্ধুরা পূর্বে সরকারে অংশ নেয়া সত্ত্বেও আজকের জনগণের কষ্টের মূল কারণ কী তা স্পষ্ট নয়। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কেন সরকারী দায়িত্বে থাকা লোকজনের বন্ধুরা এখনো জনগণের কষ্ট কমাতে পারেনি।
বিএনপি-কে দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন। “যদি কেউ এই দেশের ভাগ্য বদলাতে পারে, তবে তা হবে আমাদের দল,” তিনি বলেন এবং জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতির শৃঙ্খল টেনে ধরতে পারবে আর কেউ না।
তারেকের বক্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকরা “বিএনপি” স্লোগান চিৎকার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। র্যালির পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, এবং উপস্থিত ভক্তদের সমর্থন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
একই দিনে অন্য একটি র্যালিতে, তারেক আবারও বিএনপি-র মূল লক্ষ্যকে তুলে ধরেন: জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে দেশকে পুনর্গঠন করা। তিনি বলেন, স্বৈরশাসনভিত্তিক শাসনব্যবস্থা দেশের কাঠামো ভেঙে দিয়েছে এবং তা পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব এখন বিএনপি-র হাতে।
তারেকের মতে, বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র তারেকের দলই দেশের সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, প্রোগ্রাম এবং অভিজ্ঞতা ধারণ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণই দেশের প্রকৃত শক্তি এবং ক্ষমতার মূল উৎস।
দুপুর ১২টায় কুমার আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ প্লেগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত র্যালিতে তিনি ভোটের জন্য আহ্বান জানান। তারেকের বক্তব্যের ভিত্তিতে, বিএনপি-র ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং আসন্ন নির্বাচনে সাফল্য অর্জন করতে চায়।
এই র্যালিগুলো নির্বাচনের পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, তারেকের এই ধরনের বক্তৃতা ভোটারদের মধ্যে বিএনপি-র প্রতি আস্থা বাড়াতে পারে এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতা তুলে ধরতে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, তারেকের র্যালি বক্তব্য দেশ পরিচালনার জটিলতা ও বাস্তব নীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, এবং বিএনপি-কে দেশের একমাত্র সক্ষম দল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই ধরনের প্রকাশনা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষত ঢাকা-৮ ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে।



