উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের পর, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি প্রেস ব্রিফিং পরিচালনা করে। এই সেশনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম উল্লেখ করেন যে, আজকের ব্রিফিং সম্ভবত শেষ হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সেশন হবে না।
ব্রিফিংয়ের সময় শফিকুল আলম অতীত ১৮ মাসের যোগাযোগের প্রচেষ্টা তুলে ধরে বলেন, সরকার সর্বদা সংবাদ দ্রুত পাঠাতে এবং ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে চেষ্টা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি ঘটনার পর সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া তাদের মূল দায়িত্বের অংশ।
প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজের ব্যবহার সম্পর্কেও আলম বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, পেজে প্রকাশিত সব তথ্যই জনসাধারণের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে এবং কোনো সংবাদ বাদ দেওয়া হয়নি। পেজের ন্যূনতম ২০,০০০ ভিউ অর্জিত হয়েছে, যা তথ্যের ব্যাপক পৌঁছানোর ইঙ্গিত দেয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, প্রশ্নের সংখ্যা যাই হোক না কেন, সবগুলোই গ্রহণ করা হয়েছে এবং যথাসম্ভব উত্তর দেওয়া হয়েছে। এই প্রচেষ্টা তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
প্রেস উইংয়ের আরেক সদস্য আজাদ মজুমদারও সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলটি সাংবাদিকদের সঙ্গে সহযোগিতা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং এই সহযোগিতা থেকে ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছে। মজুমদার আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহে টেবিলের অন্য পাশে আবারও সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে।
প্রেস উইংয়ের তৃতীয় সদস্য ফয়েজ আহমদও তার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন। তিনি জানান, তিনি সব সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে সব কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছেন। অতিরিক্তভাবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে এবং যদি কোনো আচরণে জনসাধারণকে কষ্ট হয়ে থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে।
এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সরকারী যোগাযোগের ধারাবাহিকতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে। তবে শফিকুল আলমের শেষ ব্রিফিংয়ের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে, নির্বাচনের পূর্বে তথ্যের সরবরাহের নতুন পথ খোঁজার প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস সেশন না থাকে, তবে সরকারকে বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে জনমতকে অবহিত রাখতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংের এই শেষ সেশনটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে তথ্যের প্রবাহে কোনো বাধা না থাকে তা নিশ্চিত করা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।
সারসংক্ষেপে, আজকের ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম, আজাদ মজুমদার এবং ফয়েজ আহমদ তিনজনই সরকারের তথ্য সরবরাহের প্রচেষ্টা, সাংবাদিকদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং অতীতের চ্যালেঞ্জের জন্য ক্ষমা প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই ঘোষণার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



