জনেট জ্যাকসন ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘কন্ট্রোল’ এর ৪০ বছর পূর্ণ হওয়ায় ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ পোস্ট শেয়ার করেছেন। পোস্টে তিনি অ্যালবামের রেকর্ডিং সময়ের বিভিন্ন দৃশ্য সংকলন করে শিরোনাম ট্র্যাকের এক স্বতঃস্ফূর্ত বক্তৃতা যুক্ত করেছেন।
পোস্টের ক্যাপশনে তিনি অ্যালবামের শিরোনামকে সম্মান জানিয়ে “হ্যাপি ৪০থ কন্ট্রোল!” লিখে প্রযোজক জিমি জ্যাম ও টেরি লুইসকে ট্যাগ করেছেন। এই দুই প্রযোজক অ্যালবামের সৃষ্টিতে মূল ভূমিকা পালন করেন এবং আজও জ্যাকসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
বক্তৃতায় জ্যাকসন নিজের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি এখন নিজের শর্তে কাজ করছেন এবং এই অ্যালবাম তার জন্য সেই স্বাধীনতার প্রতীক। তার স্বরভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রযোজক জ্যাম ও লুইসের মতে, অ্যালবামের রেকর্ডিং প্রক্রিয়ায় “নাস্টি” গানের মুহূর্তটি মূল পরিবর্তনকারী ছিল। গানের মূল স্বরকে এক অক্টেভ নিচে গাইতে বলার পর জ্যাকসন প্রথমে দ্বিধা প্রকাশ করেন, তবে পরের দিন স্টুডিওতে শোনার পর তার মুখে বিস্ময় ও সন্তুষ্টির প্রকাশ দেখা যায়। এই প্রতিক্রিয়া দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল।
লুইস উল্লেখ করেন, “নাস্টি” গানের এই পরিবর্তন অ্যালবামের বাকি অংশে জ্যাকসনের কোনো অনিশ্চয়তা দূর করে দিয়েছিল। প্রযোজকরা জানেন যে তারা তার পাশে রয়েছে, ফলে জ্যাকসন আরও সাহসিকতার সঙ্গে গানের রেকর্ডিং চালিয়ে গেছেন।
‘কন্ট্রোল’ অ্যালবাম জ্যাকসনের ক্যারিয়ারের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ‘রিদম নেশন’ (১৯৮৯) ও ‘জ্যানেট’ (১৯৯৩) এর মতো সফল রেকর্ডের ভিত্তি স্থাপন করে। এই তিনটি অ্যালবাম তার সঙ্গীতের দিক পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি এনে দেয়।
১৯৮৭ সালের গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে ‘কন্ট্রোল’ অ্যালবাম তিনটি বিভাগে মনোনীত হয়। জ্যাকসনকে ‘বেস্ট ফিমেল আর অ্যান্ড বি ভোকাল পারফরম্যান্স’ এবং অ্যালবামকে ‘অ্যালবাম অফ দ্য ইয়ার’ ক্যাটেগরিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এছাড়া ‘হোয়াট হ্যাভ ইউ ডান ফর মি লেটলি’ গানের জন্য ‘বেস্ট আর অ্যান্ড বি সঙ’ নামেও মনোনয়ন পাওয়া যায়।
সেই বছর জ্যাম ও লুইস ‘প্রোডিউসার অফ দ্য ইয়ার, নন-ক্লাসিক্যাল’ পুরস্কার জিতেন, যা অ্যালবামের সাফল্যের পেছনের শক্তি হিসেবে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়।
‘কন্ট্রোল’ অ্যালবাম প্রকাশের পর থেকে সঙ্গীত জগতে বিশাল প্রভাব ফেলেছে। এর স্বতন্ত্র রিদম, ইলেকট্রনিক সাউন্ড ও আত্মবিশ্বাসী লিরিক্স নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজও বহু শিল্পী এই অ্যালবামকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ভক্তদের মন্তব্যে অ্যালবামের স্মৃতি ও প্রভাবের কথা উঠে আসে। বহু ভক্ত জ্যাকসনের এই উদযাপনকে প্রশংসা করে এবং অ্যালবামের গানগুলো এখনও তাদের প্লেলিস্টে শীর্ষে রয়েছে বলে জানান।
জনেট জ্যাকসন এই বিশেষ মুহূর্তটি তার সঙ্গীত যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্পের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ‘কন্ট্রোল’ এর ৪০ বছর পূর্ণ হওয়া তার ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা ও সৃজনশীলতা বজায় রাখার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



