ইউএন অভিবাসন সংস্থা সোমবার জানিয়েছে, লিবিয়ার উপকূলে একটি ছোট নৌকা ডুবে ৫৩ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হয়েছে, এবং মাত্র দুইজন নারী বেঁচে গেছেন। এই ঘটনা মধ্যধরার সমুদ্রের কেন্দ্রীয় রুটে ঘটে, যেখানে প্রতি বছর হাজারো অভিবাসী বিপজ্জনক যাত্রা করে। সংস্থার মতে, দুজন বেঁচে থাকা নারীই লিবিয়ান কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান-উদ্ধার অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া নৌকাটি জুয়ারা শহরের উত্তরে শুক্রবার রাতের দিকে উল্টে গিয়েছিল। নৌকাটি আল-জাওয়িয়া থেকে প্রস্থান করে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর পানিতে ডুবে যায়, যখন তা অতিরিক্ত পানির ভর শোষণ করে। নৌকায় আফ্রিকান জাতীয়তার অভিবাসী ও শরণার্থী ছিলেন, যারা উত্তর আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করছিল।
লিবিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীর অনুসন্ধান-উদ্ধার দল দুইজন নাইজেরিয়ান নারীর জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হয়। বেঁচে থাকা নারীরা জানান, তাদের স্বামী ও দুই শিশুরা এই দুঃখজনক ঘটনার শিকার হয়েছে। উভয় নারীই লিবিয়ান কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে অবতরণ করার পর জরুরি চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন।
বেঁচে থাকা নারীদের শোকের সঙ্গে সঙ্গে, IOM অবিলম্বে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেছে এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করেছে। সংস্থা উল্লেখ করেছে, এই দুজনের পাশাপাশি, অন্যান্য যাত্রীর দেহও সমুদ্রের তলে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরবর্তী দিনগুলোতে পুনরুদ্ধার করা হবে।
সংস্থার একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই দুঃখজনক ঘটনা মধ্যধরার সমুদ্রের কেন্দ্রীয় রুটে আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। IOM এই রুটে নিয়মিতভাবে মানব পাচার ও অবৈধ শিপিং নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যা অযোগ্য নৌকায় মানুষকে বহন করে বিপদ বাড়িয়ে দেয়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌকাগুলি প্রায়ই পুরনো ও রক্ষণাবেক্ষণহীন, ফলে সামান্যই জল প্রবেশ করলেও তা দ্রুত ডুবে যায়। নেটওয়ার্কগুলো উচ্চ লাভের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা চালিয়ে যায়, এবং শরণার্থীদের মানবিক অধিকার ও নিরাপত্তা উপেক্ষা করে।
ইউএন অভিবাসন সংস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, মানব পাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে এবং নিরাপদ, নিয়মিত অভিবাসন পথ তৈরি করতে। সংস্থা জোর দিয়ে বলেছে, সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া এই ধরণের ট্র্যাজেডি রোধ করা কঠিন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ইউরোপের দক্ষিণ উপকূলে নিরাপদ শরণার্থী গ্রহণের ব্যবস্থা বাড়ানো এবং বৈধ ভিসা প্রোগ্রাম সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ধরনের বিপদজনক যাত্রা কমানো সম্ভব। তারা যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া মানবিক সংকটের সমাধান সীমিত থাকবে।
লিবিয়ার সরকারও এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়েছে এবং অভিবাসী নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় আইন প্রয়োগে জোর দেবে। তবে, দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, লিবিয়ার উপকূলে নৌকা ডুবে ৫৩ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়া একটি বড় মানবিক বিপর্যয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ও নিরাপদ অভিবাসন পথের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি রোধে কূটনৈতিক সংলাপ, আর্থিক সহায়তা এবং নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অপরিহার্য।



