সোমবার নির্বাচন ভবনে ইলেকশন কমিশনারের সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর, রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা জানায়। সংগঠনটি উল্লেখ করে, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনের অনুপস্থিতি সাংবাদিকদের কাজের মৌলিক সরঞ্জামকে বাদ দেয়, ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আরএফইডি সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করে এবং তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি জোর দেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে স্মার্টফোন অপরিহার্য, কারণ তা রিয়েল‑টাইম রিপোর্টিং, ছবি তোলা এবং ডেটা সংরক্ষণে সহায়তা করে।
ইলেকশন কমিশনের পূর্ববর্তী নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে কোনো মোবাইল ফোন বহন করা যাবে না। তবে এই বিধান শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য ব্যতিক্রমী অনুমতি প্রদান করে, যেমন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ, নির্বাচনী নিরাপত্তা অ্যাপ ‘ইলেকশন সিকিউরিটি ২০২৬’ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য এবং সাধারণ আনসার। অন্য সব সাংবাদিককে ফোন ছাড়া কাজ করতে হবে, যা বাস্তবে অসম্ভব বলে আরএফইডি দাবি করে।
সাক্ষাতের পর ইলেকশন কমিশন আরএফইডির উদ্বেগের প্রতি সাড়া দিয়ে আশ্বাস দেয় যে, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। কমিশন জানায়, শীঘ্রই একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে, যাতে সাংবাদিকদের কাজের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। আরএফইডি উল্লেখ করে, যদি সাংবাদিকদের মৌলিক সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে ভোটের ফলাফল, প্রক্রিয়া এবং কোনো অনিয়মের রিপোর্টিং কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে ভোটারদের সঠিক তথ্য পাওয়া এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেওয়া দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের কণ্ঠ দমন করা কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না। তারা যুক্তি দেয়, নির্বাচনের মাঠে কিছু সিদ্ধান্ত পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বে বাধা সৃষ্টি করছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ইলেকশন কমিশনের এই নতুন আশ্বাসের ফলে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে কী ধরণের শর্তাবলী থাকবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে। আরএফইডি দাবি করে, নতুন নির্দেশনা দ্রুত প্রকাশ করা এবং তা সুনির্দিষ্টভাবে অনুসরণ করা উচিত, যাতে কোনো ধরণের বিভ্রান্তি না থাকে।
এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটকেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলে, ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা হবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে অধিক স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রদান করবে। অন্যদিকে, যদি মোবাইল ফোনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকে, তবে সাংবাদিকদের কাজের গুণগত মান হ্রাস পাবে এবং নির্বাচনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আরএফইডি এবং ইলেকশন কমিশনের মধ্যে এই মতবিরোধের সমাধান ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মৌলিক কাজের সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দিকে কেন্দ্রীভূত হওয়া প্রয়োজন। উভয় পক্ষেরই স্বার্থ হল একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করা, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
ভবিষ্যতে এই বিষয়ে কী ধরনের নীতি গৃহীত হবে, তা দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। আরএফইডি ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছে, যদি নতুন নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রকাশ না হয়, তবে তারা পুনরায় ইলেকশন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এই আলোচনার ফলাফল ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশকে পুনর্গঠন করবে এবং দেশের নির্বাচনী সংস্কারকে আরও শক্তিশালী করবে।



